০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০:০৫

শিশুদের অনলাইনে ক্লাস নেয়া হলে মেধার অপমৃত্যু ঘটবে: ডা. শফিকুর রহমান

ডা. শফিকুর রহমান  © সংগৃহীত

শিশুদের অনলাইনে ক্লাস নেয়া হলে মেধার অপমৃত্যু ঘটবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা আয়োজিত দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের নাফিস কনভেনশন সেন্টারে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এমনিতেই শিশুরা ডিভাইসে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এখন যদি স্কুল থেকে তাদের বিরত রেখে ডিভাইস তুলে দেওয়া হয়, তাহলে তাদের মেধার মৃত্যু ঘটবে। শুধু কি তাই, একটি শিশু যখন স্কুলে যায়, তখন সে সঙ্গ পায়। সেই শিশুটাকে যদি ঘরে বসে ক্লাস করার কথা বলা হয়, শিশুরা হলো চপলা-চঞ্চল। ক্লাসে যখন শিশুরা থাকে, তখন তাকে শিক্ষক দেখে রাখেন। 

কিন্তু ঘরে সে যখন স্বাধীনভাবে থাকবে, তখন তাকে কে দেখবে সে ডিভাইস টেবিলে রেখে গিয়ে যদি খেলতে চলে যায়, দেখবে কে? ঘুমিয়ে থাকে তাও করার কিছু নেই। ক্লাস বাদ দিয়ে যদি ঘরে বসে ভাই-বোনেরা খুঁনসুঁটি করে তাও করার কিছু নেই। এভাবে মেধার অপমৃত্যু ঘটবে।

তিনি বলেন, আমরা যখন সংসদে জিজ্ঞাসা করছি, সমস্যাটা বিশ্বব্যাপী চলছে, তা বাংলাদেশের সৃষ্টি না। এ সমস্যা উত্তরণে আমরাও সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু সরকার বলছে কোনো সমস্যায় নেই। সংসদের ভেতরে এমনভাবে বিবৃতি দেয়া হয়, মনে হয় যেন, সমস্যা তো নেই, বরং উদ্বৃত্ত তেলের ভেতরে ভাসছে বাংলাদেশ। লজ্জা....

আমরা জিজ্ঞেগ করেছি তাই যদি হয়, কেন তাহলে মোটর সাইকেলচালক ও গাড়ি চালকরা পেট্টোল পাম্পের সামনে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছে? কিলোমিটারের পর কিলোমিটার কেন তাদের লাইনে থাকতে হয়? কেন তাদের রোদে শুকাতে ও বৃষ্টিতে ভিজতে হয়? বাইক চালকরা বলছেন আগে সাত/আট ঘণ্টা চালাতে পারত, তেলের কারণে এখন তিন ঘণ্টাও বাইক চালানোর সময় পায় না। জীবনের সকল ক্ষেত্রে দুঃসহ যাতনা নেমে আসছে। আর সরকার বলছে, তেলের কোনো অভাব নেই। এটা অবশ্য ঠিক, তেলের অভাব কার জন্য নেই, এটা বলেনি।

তিনি আরও বলেন, কেউ কেউ তেল ড্রাম ভর্তি করে নিজেদের ঘরে, বাঁশঝাড়ে ও গোয়ালঘরেসহ বিভিন্ন জায়গায় তারা তেল রেখে দিয়েছে। পাম্পে তেল পাওয়া যায় না, লেখা থাকে তেল নেই পাম্প বন্ধ, কিন্তু ওখানে গেলে তেল পাওয়া যায়। ১২০ টাকা দামের তেল ওখানে গেলে ৩০০ টাকায় পাওয়া যায়। এইভাবে জ্বালানির ওপর পাওয়ার নির্ভরশীল। এই জ্বালানিতে শুধু বাতি-ফ্যান ঘুরে না, এতে সমাজের চাকাও ঘুরে। মিল-ফ্যাক্টরি, ট্রান্সপোর্ট চলে। এটা লজ্জার ব্যাপার। সরকার কেন সবাইকে নিয়ে খোলা মনে বসছে না। বাস্তব অবস্থা কেন তুলে ধরছে না। আমরা সবাই এই সংকট নিরসনের অংশীদার হতে চাই। আমরা তো সংকট তৈরি করতে চাই না। কি যেন একটা লুকোচুরি, একটা স্পষ্টতা রয়েছে, এটি থেকে বের হয়ে আসার জন্য সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি।