এনসিপি নেতার প্রশ্ন— অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত জনগণের জন্য, নাকি ক্ষমতার
গণভোটসহ অন্তর্বর্তী সরকারের করা ১১টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশের সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক গোলাম মর্তুজা সেলিম বলেছেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী ভেবে যারা জনগণের জবাবদিহিতা কমাতে চায়, তাদের শেষটা কখনো ভাল হয়নি। অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই সিদ্ধান্ত জনগণের জন্য, নাকি ক্ষমতার জন্য?
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এসব কথা বলেন সেলিম।
দলের কৃষিবিদ উইংয়ের প্রধান গোলাম মর্তুজা সেলিম বলেন, গণভোটসহ জনগণের অধিকার শক্তিশালী করবে এমন অধ্যাদেশগুলোই যদি একে একে বাতিল করার সুপারিশ আসে, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই এই সিদ্ধান্ত জনগণের জন্য, নাকি ক্ষমতার জন্য?
তিনি বলেন, এই জাতি অনেক কিছু সহ্য করে, পরিস্থিতির কারণে ছাড় দেয়। কিন্তু ইতিহাস বলে, অন্যায়কে কখনো স্থায়ীভাবে মেনে নেয় না। ২০০১ সালের পর যা হয়েছিল, তা কি আমরা ভুলে গেছি? ক্ষমতা চিরস্থায়ী ভেবে যারা জনগণের জবাবদিহিতা কমাতে চায়, তাদের শেষটা কখনো ভালো হয়নি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস সেটাই বলে।
গোলাম মর্তুজা সেলিম বলেন, মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালী হবে না, গুম প্রতিরোধের আইন থাকবে না, দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না, বিচারক নিয়োগ স্বচ্ছ হবে না, তথ্য অধিকার দুর্বল হবে, তাহলে রাষ্ট্রটা কার জন্য চলবে? জনগণের জন্য নাকি কিছু লোকের জন্য?
এনসিপি নেতা আরও বলেন, যে আইনগুলো রাষ্ট্রকে জবাবদিহির মধ্যে আনে, স্বচ্ছতা বাড়ায়, দুর্নীতি কমায়, সেগুলোই যদি বাতিল করা হয়, তাহলে উন্নয়ন আর গণতন্ত্রের কথা বলা শুধু বক্তৃতাতেই ভালো শোনায়, বাস্তবে না। বাংলাদেশের মানুষ বোকা না। সময়মতো ঠিকই হিসাব নেয়।