০২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৭

সংসদ থেকে ওয়াক-আউট, যা বললেন বিরোধীদলীয় নেতা

সংসদ থেকে ওয়াক-আউট, যা বললেন বিরোধীদলীয় নেতা  © টিডিসি ফটো

সংসদ অধিবেশনে বুধবার (১ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের প্রশ্নে নোটিশের বিষয়টির কোনো প্রতিকার না পেয়ে, উপরন্তু এই নোটিশের বিষয় ধামাচাপা দিতে অন্য আরেকটি নোটিশ কার্যতালিকায় আনার ঘোষণার প্রতিবাদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধীদলের সংসদ সদস্যগণ ওয়াক আউট করেন। 

ওয়াক আউট শেষে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, আজকের বিষয়টি কারো ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি জাতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর অসংখ্য তরুণ, যুবক, ছাত্র-জনতা ও ব্যবসায়ীর সীমাহীন ত্যাগ, কোরবানি এবং জীবনদানের মাধ্যমে এই পরিবর্তন এসেছে। বিগত চব্বিশের জুলাইয়ে অসংখ্য মানুষ জীবন দিয়েছেন। ৫ আগস্ট যে পরিবর্তন এসেছিল, সে পরিবর্তনের পরে নিঃসন্দেহে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হয়।

তিনি বলেন, গত ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দুটি ভাষণ আপনারা শুনেছেন। এর একটি বিকেল পৌনে চারটায় দিয়েছেন সেনাপ্রধান। আরেকটি ভাষণ সম্ভবত রাতের পৌনে ১২টায় দিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ। দুই ভাষণের সাক্ষী বাংলাদেশের সকল মানুষ।

তিনি আরও বলেন, সেদিন পটপরিবর্তনের পর প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং সিভিল সোসাইটির কয়েকজন সদস্যসহ আমরা জাতির প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে বঙ্গভবনে বসেছিলাম। রাষ্ট্রপতি আমাদের প্রশ্নের জবাবে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র পেয়েছেন। আমরা জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনি তা মঞ্জুর করেছেন কিনা? তিনি বলেছেন, মঞ্জুর করেছেন। এর প্রেক্ষিতে আমরা চেয়েছিলাম, বাংলাদেশ দ্রুত নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক শাসনের পথে ফিরে আসুক। আমরা কিছু পরামর্শ দিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম, গণঅভ্যুত্থান বা বিপ্লব- যাই বলি না কেন- এখানে নেতৃত্বের মূল জায়গায় ছিল তরুণ, যুবসমাজ ও ছাত্রসমাজ। তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আপনাদের বসতে হবে, তাদের কথা শুনতে হবে এবং তাদের প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিতে হবে। পাশাপাশি আমাদের পরামর্শগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে, যাতে দেশ আবার দ্রুত শৃঙ্খলায় ফিরে আসে- সে উদ্যোগ আপনারা নেবেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সেসময় কথা ছিল সংসদ তিনি (রাষ্ট্রপতি) ভেঙে দেবেন। পরদিন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দেবেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো গঠন করবেন। ৮ আগস্ট পর্যন্ত এগুলো সম্পন্ন হয়েছে। ৫, ৬, ৭ ও ৮ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশ কার্যত কোনো সরকারব্যবস্থা ছিল না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ছিল না। রাস্তায় সীমিত জায়গায় সেনাবাহিনীর সামান্য টহল ছিল।

তিনি বলেন, আমরা ৫ আগস্ট রাতেই জাতিকে শান্ত থাকতে ও ধৈর্য ধরার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলাম। জনগণ স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনুন—আমরা এ আহ্বান জানিয়েছিলাম। সেসময় বাংলাদেশ নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। বড় ধরনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্কারের উদ্দেশ্যে ৬টি কমিশন গঠন করেছিল। কমিশনগুলো যথারীতি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর সরকার বিগত সাড়ে ১৫ বছর ধরে যে সংবিধানের কথা বলে, সেই সংবিধান ব্যবহার করে জনগণের ওপর দফায় দফায় ফ্যাসিবাদ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার যাঁতাকলে বিচারবহির্ভূতভাবে ২,৬৬৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি গুমের সংখ্যা ছিল ১০ হাজারেরও বেশি। এখনো ২৫০ জনের বেশি নাগরিক ফিরে আসেননি। ‘আয়নাঘর’ নামক কুখ্যাত ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করা হয়েছিল। এর একটি প্রোটোটাইপ জুলাই জাদুঘরে স্থান পেয়েছে। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা জানতেন না তারা কোথায় আছেন। এই সংস্কৃতির জন্ম হয়েছে সংবিধানের দোহাই দিয়ে।

তিনি বলেন, এই সাংবিধানিক কাঠামো ফ্যাসিবাদকে সমর্থন দিয়েছে এবং অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করেছে। বড় ধরনের সংস্কারের লক্ষ্যে যখন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয় এবং ঐকমত্যের জন্য আলোচনা শুরু হয়, তখন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব রাজনৈতিক দল এতে অংশগ্রহণ করে। মাসের পর মাস আলোচনা হয়েছে। মিডিয়ার লাইভ সম্প্রচারে সবাই দেখেছেন কে কী ভূমিকা রেখেছেন, কে কী বলেছেন। শেষ পর্যন্ত একটি সনদ তৈরি হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সব দলই তাতে স্বাক্ষর করে—আজকের বিরোধী দল ও সরকারি দলসহ সবাই।

তিনি বলেন, নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়ে রাষ্ট্রপতির একটি আদেশের মাধ্যমে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের নির্দেশ দেওয়া হয়, যা সরকারি দল ও বিরোধী দল সবাই গ্রহণ করে। তবে আমাদের দাবি ছিল গণভোট আগে অনুষ্ঠিত হবে, তারপর সংসদ নির্বাচন। বর্তমান সরকারি দলের দাবি ছিল একই দিনে দুটি নির্বাচন হবে। ভোট আয়োজনের স্বার্থে আমরা নমনীয় হই। এখানে লক্ষণীয় বিষয়, ঐকমত্য কমিশনে সরকারি দলের যে নেতা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তিনিই সংস্কার কমিশনে গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছিলেন- আমরা তা সমর্থন করেছি।

গণভোটে চারটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের ভিত্তিতে জনগণের রায় চাওয়া হয়েছে, যা নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের অনেক আগে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। এর পক্ষে প্রচারণাও চালানো হয়েছে। প্রথম দিকে অন্তর্বর্তী সরকারও এ প্রচারণায় অংশ নেয়।

আমীরে জামায়াত বলেন, নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে আমরা সবাই জনগণের কাছে দুটি ভোট চেয়েছি- সংস্কারের পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং আমাদের প্রতীকের পক্ষে ভোট। আমরা যেমনটি চেয়েছি, তেমনি বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা এবং অন্যান্য নেতারাও একই আহ্বান জানিয়েছেন। প্রকাশ্যে গণভোটের বিপক্ষে বর্তমান সংসদে থাকা কেউ কোনো বক্তব্য দেননি।

দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হলো। নিয়ম অনুযায়ী যারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবেন, তারা সরকার গঠন করবেন। ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে সংসদ অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যে পদ্ধতিতে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করা হবে, একই পদ্ধতিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা হবে। আরও বলা হয়েছে, এই ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন। তাদের দুটি শপথ থাকবে- একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং আরেকটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। সংস্কার পরিষদ গঠনের পর ১৮০ দিনের মধ্যে তারা সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবেন এবং দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর এই পরিষদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। 

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা নির্বাচনের দিন পর্যন্ত একই অবস্থানে ছিলাম। ফল প্রকাশের পর সংসদ সচিবালয় থেকে আমাদেরকে শপথ গ্রহণের জন্য দুটি আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময়ে আমরা উপস্থিত হয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ গ্রহণ করি।

তিনি বলেন, আমাদের আগে সরকারি দলের সম্মানিত সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন, তবে সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি। 

তিনি বলেন, যে বাধ্যবাধকতাটা ছিল গেজেট প্রকাশের ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান করতে হবে সেটি আর করা হলো না। কে করবে? সংবিধান অনুযায়ী এ কাজটি করবেন রাষ্ট্রপতি। কীভাবে করবেন? তাকে লিখিত অনুরোধ জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। দুটি সভাই আহ্বান করা হবে প্রধানমন্ত্রীর লিখিত অনুরোধে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা যখন খেয়াল করলাম এই সভা আহ্বান করা হচ্ছে না, লক্ষণীয়ভাবে সভাটি আহ্বান করা হলো সময়ের শেষ প্রান্তে ১২ মার্চ। ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিন হওয়ার কারণে ১৫ তারিখ পর্যন্ত আমরা একটি সুযোগ পেলাম। যেহেতু গেজেট প্রকাশ হয়েছিল ১৩ ফেব্রুয়ারি। আমরা যখন খেয়াল করলাম যে জনগণের রায় অগ্রাহ্য হয়ে যাচ্ছে, সেদিনই বিবেচনায় নেওয়া হয়নি, তখন বিরোধীদলের দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে পয়েন্ট অব অর্ডারে আমি দাঁড়িয়ে কথা বলেছি। 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি উত্থাপন করার পরে আমার উদ্‌বেগের কথা ও দাবির কথা জানানোর পরে মাননীয় স্পিকার আমাদের নোটিশ দিতে বলেন। আমরা সেই নোটিশটি ঠিক তৃতীয় কর্মদিবসে ২৯ মার্চ দিই। সেদিন স্পিকার তার স্ত্রীর ইন্তেকালজনিত কারণে উপস্থিত না থাকায় সেই নোটিশটি ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব পালনকালে আমলে নেন বিভিন্ন বাধার মুখে। দিবসের শেষ আলোচ্য বিষয় হিসেবে ২ ঘণ্টার জন্য ৩১ মার্চ তারিখ ধার্য করা হয়। আমরা আলোচনার সূত্রপাত করেছি, যেহেতু নোটিশটি আমাদের। মূল বিষয়টি আমি উত্থাপন করেছি। আমাদের পক্ষের যারা কথা বলেছেন তারা তাদের যুক্তি তুলে ধরেছেন, সরকারি দলও তুলে ধরেছেন। সরকারি দলের পক্ষ থেকে আসা কিছু অপ্রাসঙ্গিক কথার প্রতিবাদ করা হয়েছে। তবে শেষ বক্তা হিসেব মাননীয় আইনমন্ত্রীর বেশ কিছু প্রসঙ্গে আমাদের উত্তর তুলে ধরা সম্ভব হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। বলেছেন, তারা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। এটি হবে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের মাধ্যমে। সংবিধান সংশোধনের উদ্দেশে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। আমরা বলেছিলাম জনগণের কাছে যে গণভোটের জন্য রায় চাওয়া হয়েছে, সেক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনের জন্য রায় চাওয়া হয়নি। রায় চাওয়া হয়েছে সংবিধান সংস্কারের জন্য। জনগণ যে রায় দিয়েছে আমরা ওইটার পক্ষে দাঁড়িয়েছি। কাজেই সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কোনো কমিটি অপ্রাসঙ্গিক।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যদি তারা সদিচ্ছা নিয়ে এই প্রস্তাব দিয়ে থাকেন, তাহলে এটি সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়ই হবে। আমার শর্ত ছিল- যদি কমিটিকে কার্যকরভাবে কার্যক্রম পরিচালনার ইচ্ছা থাকে, তাহলে সরকার ও বিরোধীদল থেকে সমানসংখ্যক সদস্য দিতে হবে। তারা অবশ্য এটির আপত্তি করেছে। তবে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি বিরোধীদলের প্রস্তাবে আংশিক রাজি আছি। সংবিধান সংশোধনের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এটা আমি মেনে নিয়েছি। আমি বলেছি, এটি হতে হবে সংবিধান সংস্কার কমিটি।

তিনি আরও বলেন, আমাকে মিসকোড করার কারণে আমি স্পিকারের কাছে সুযোগ চাই। স্পিকার কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ায় পরবর্তী দিনে তা বলতে বলেন আমাকে। সংসদের কার্যপ্রণালী অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর পর্বের পর এ ধরনের বিষয় আসলে সেটাতে আসা যায়, সেকারণে আমি দাঁড়িয়েছিলাম এবং তিনি আমাকে সুযোগ দিয়েছেন। আমি আইনমন্ত্রীর ভুল তথ্যেও প্রতিবাদ জানিয়ে আলোচনা শেষ হয়েছে মর্মে সিদ্ধান্ত জানতে চাইলাম। তিনি তিনটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে বলে সংসদকে অবহিত করে বললেন- এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে শেষ হয়েছে। আমরা তখন বলেছি, আমরা তো সংকটের প্রতিকার চেয়েছি, সংকট সৃষ্টি করতে এখানে আসিনি। কিন্তু আমরা খুবই আশাহত হলাম। জাতির ভোটের ম্যান্ডেটকে বেমালুম অগ্রাহ্য করা হলো, অমান্য করা হলো। আমরা সেই গণভোটকে, চূড়ান্ত অভিপ্রায় ও রায়কে অমান্য ও অগ্রাহ্য এবং অসম্মান করতে পারি না। এজন্য প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা ওয়াকআউট করেছি।

ফলশ্রুতিতে স্পিকার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, এ সংক্রান্ত আরেকটি নোটিশ মুলতবি প্রস্তাব হিসেবে এসেছে, সেটি আজকে আমরা আলোচনা করব। আপনারা ওয়াকআউট না করে অংশগ্রহণ করেন, মন খুলে কথা বলেন। আমি জবাবে বলেছি, যে নোটিশটি দেওয়া হয়েছে সেটি মূলত জনগণের অভিপ্রায়কে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য পরিকল্পিত নোটিশ। আমরা ওটারও প্রতিবাদে ওয়াকআউট করছি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যখন সংসদের ভেতরে জনগণের এই অভিপ্রায় এবং ম্যান্ডেটটি সম্মানিত এবং গৃহীত হলো না, আমাদের জন্য তখন পথ একটাই- আবার আমাদেরকে জনগণের কাছে ফিরে যেতে হবে।

যে জনগণ আমাদেরকে এই রায় দিয়েছিল আমরা এখন সেই জনগণের কাছেই ফিরে যাব ইনশাআল্লাহ। আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে এই গণভোটের যে দাবি- তা কীভাবে আদায় করা যায়, আমরা সেই কার্যক্রম গ্রহণ করব।

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে অতীতে দেশ ও জনগণের স্বার্থে আমরা দেশবাসীকে কাছে পেয়েছি, এবারও আমরা আন্তরিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকব ইনশাআল্লাহ। 

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, অতীতেও আপনারা দেশের ন্যায্য দাবি-দাওয়া আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, এটা কোনো দলের দাবি নয়, এটা কোনো গোষ্ঠীর দাবি নয়, এটা কোনো ব্যক্তিস্বার্থ সংরক্ষণের দাবি নয়। 

তিনি বলেন, জুলাই সনদে সরকারি দলের বেশ কিছু নোট অব ডিসেন্ট আছে। তারা ডিসেন্টিং অপিনিয়ন দিয়েছেন। তারা এখন কী করবেন, সেটা তাদের ব্যাপার। কিন্তু জনগণের সংস্কারের যে প্রত্যাশা, দেশের রাজনৈতিক চরিত্র পরিবর্তনের এই আকাঙ্ক্ষা। অথচ এই প্রত্যাশাকে নিয়মমাফিক চলতে দেওয়া হলো না। এটা দেশবাসীর জন্য কষ্টের জায়গা, আর এই সংসদের জন্য দুর্ভাগ্যের জায়গা।

তিনি বলেন, এইসব ব্যাপারে আমরা আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা চাই। আমরা ১১টি দল নির্বাচনের আগে থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আমাদের মেজর দুটি দাবি ছিল একটি হলো সুশাসন, ন্যায়বিচার, আরেকটি ছিল দুর্নীতি-দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান।

আমরা এখন জনগণের দাবি জনগণের নিকট ফিরে নিয়ে যাব। আমরা ইনশাআল্লাহ জনগণকে সাথে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।