০১ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৩৫

যে ৭ কারণে বাহাত্তরের সংবিধান ছুঁড়ে ফেলতে চান এনসিপি নেত্রী

দিলশানা পারুল  © সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা জেলা উত্তরের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক দিলশানা পারুল বাহাত্তরের সংবিধান নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তা বাতিলের পক্ষে সাতটি কারণ উল্লেখ করেছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পোস্টে দিলশানা পারুল লিখেছেন, ‘কালকে আন্দালিব প্রার্থ বললেন বাহাত্তরের সংবিধান ছুড়ে ফেলতে চান কেন? একাত্তরে পরাজিত হওয়ার কথা মনে পরে যায়?? আসেন দেখি ৭২ এর সংবিধানের উপর বেস করে গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশ রাষ্ট্রে কি কি হয়েছে তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নেই সংবিধান বিষয়ে।’

তিনি তার পোস্টে সাতটি কারণ তুলে ধরেন। সেগুলো হলো- এই সংবিধানের উপস্থিতিতেই বাকশাল হয়েছে, সমস্ত রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং রক্ষী বাহিনী গঠন করা হয়েছে, যা থেকে জনগণকে রক্ষা করতে পারেনি সংবিধান। শেখ মুজিব ও জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পেছনে জবাবদিহিতার কাঠামোর অভাবকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি। এরশাদের নয় বছরের স্বৈরশাসন এবং শেখ হাসিনার ১৬ বছরের ডামি নির্বাচনের শাসনকেও তিনি এ সংবিধানের ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গুম, খুন ও ‘আয়নাঘর’ পরিচালনা হলেও কোনো প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারেনি। ২১ দিনে বিপুলসংখ্যক মানুষ হত্যার ঘটনাও সংবিধান ঠেকাতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে গত ১০ বছরে ৬৮ বিলিয়ন ডলার পাচারের ঘটনাও কোনো সাংবিধানিক কাঠামো দিয়ে প্রতিরোধ করা যায়নি বলে উল্লেখ করেন।

পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘আমি আইনের ছাত্র না, সংবিধান বেদ্যাদের মতো সংবিধান হয়তো এতো বুঝিও না। কিন্তু আমি পিপুল বুঝি, রাজনীতি বুঝি। খুব পরিষ্কার করে বুঝি এই সংবিধান আর যাই হোক গণমানুষের সংবিধান কোনদিন হয় নাই, হইতে পারে নাই। যে কারণে এই রাষ্ট্র, সরকারও কোনদিন গণমানুষের হইতে পারে নাই। কিছু যায় আসে না সরকারে কোন রাজনৈতিক দল বসে আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাহাত্তরের সংবিধান আমরা কেন ছুড়ে ফেলতে চাই? এই সব কারণে ছুঁড়ে ফেলতে চাই। ছুঁড়ে ফেলতে চাই কারণ ৯০, ২৪-এর মতো করে দফায় দফায় তরুণ যুবাদের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য যেন রক্ত দিতে না হয়।’