মাসুদ চৌধুরীকে গ্রেফতার ও ওয়ান ইলেভেন, যা বলছেন ফারুকী
মাসুদ চৌধুরীর গ্রেফতারকে ওয়ান ইলেভেন অধ্যায়ের তদন্ত শুরুর ‘ইতিবাচক সূচনা’ হিসেবে দেখছেন সাবেক উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তার মতে, শুধু গ্রেফতারেই সীমাবদ্ধ না থেকে ওয়ান ইলেভেনের পুরো প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ খতিয়ে দেখা জরুরি, কারণ দেশের সাম্প্রতিক বহু সংকটের শেকড় ওই সময়েই নিহিত।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে ফারুকী বলেন, ওয়ান ইলেভেনের প্রধান ক্রীড়নক মাসুদ চৌধুরিকে গ্রেফতার বর্তমান সরকারের একটা ভালো সূচনা মাত্র। এবার তদন্ত শুরু করা হোক ওয়ান-ইলেভেনের আদ্যোপান্ত নিয়ে। এমনকি ২০০৮-য়ের নির্বাচন নিয়েও তদন্ত হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, ওয়ান-ইলেভেন হচ্ছে সকল সর্বনাশের গোড়া। এই যে শত শত মানুষ গুম, হাজার হাজার বিরোধী নেতা-কর্মীদের উপর নির্যাতন, বিডিআর ম্যসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্বাচন ব্যবস্থা ভ্যানিশ করে দেয়া, জুলাই হত্যকান্ড সহ হাসিনার সকল অপকর্মের লাইসেন্স এসেছে ঐ ওয়ান ইলেভেন থেকে।
দুইটি বিষয় উল্লেখ্য করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, মনে রাখতে হবে ট্রমা-আক্রান্ত জাতির সামনে আগানো এবং হিলিংয়ের জন্য দুইটা জিনিস দরকারঃ বিচার এবং স্মৃতি সংরক্ষণ। স্মৃতি সংরক্ষণ বলতে বোঝাচ্ছি ইতিহাস সংরক্ষণ। সেটা মিউজিয়াম, ডকুমেন্টেশন, রিপোর্ট নানা ভাবেই হতে পারে। তো বিচার এবং স্মৃতি সংরক্ষণের কাজ ঘটে যাওয়া মাত্র ঐ অধ্যায় নিয়ে পড়ে না থেকে সামনের দিকে আগানোর সুযোগ তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু এই দুই কাজ অসমাপ্ত রেখে যদি ‘চলো সব ভুলে যাই বলে’ সামনে আগাই তাহলে দুইটা বিপদ: এক. অপরাধীদের অথবা নতুন অপরাধীদের উৎসাহ দেয়া হয়। তারা তখন পরবর্তী অপকর্ম থেকে জাস্ট একটা সুযোগ দুরে সর্বদা দন্ডায়মান থাকে। দুই. বিচার এবং স্মৃতি সংরক্ষণ ছাড়া সামনে আগালে ক্ষোভ থেকে যায় মানুষের যৌথ স্মৃতিতে। হিলিংয়ের জন্য এটা আদর্শ অবস্থা নয়।
এর আগে সোমবার (২৩ মার্চ) দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও এক-এগারোর অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
প্রসঙ্গত, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালের এক-এগারোর পটপরিবর্তনের সময় সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন এবং ওই সময়ে অন্যতম প্রধান কুশীলব হিসেবে আবির্ভূত হন। পরবর্তীতে তিনি ‘গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র সমন্বয়ক নিযুক্ত হন এবং পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন। তার নেতৃত্বাধীন এই কমিটির মাধ্যমেই তখন দেশজুড়ে আলোচিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছিল।
২০০৮ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার তিন দফায় তার চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করে। সরকারি চাকুরি থেকে অবসরের পর তিনি ঢাকায় রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।