২২ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৩

আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে এনসিপির দুই নেতাকে শোকজ

ইবাদত আলী ও হেলাল উদ্দিন  © সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২১ মার্চ) এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী জান্নাতুল ফেরদৌস টনি স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-সমন্বয়কারী ইবাদত আলী ও কুমারখালী উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী হেলাল উদ্দিনকে এ নোটিশ দেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস টনি বলেন, এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সমন্বয়কারী ইবাদত আলী ও কুমারখালী উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী হেলাল উদ্দিনকে এ নোটিশ দেওয়া হয়। তাদেরকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে নোটিশের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের চালের অর্থ আত্মসাৎ এবং নির্বাচনি সময়ে দলীয় নীতিমালা লঙ্ঘন করে অন্য রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে কুমারখালী উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘দুই টন চাল বরাদ্দ পেয়েছিলাম। তা ৭১ হাজার টাকা বিক্রি করা হয়। সেই টাকার ২৯ হাজার টাকার শাড়ি-লুঙ্গি কেনা হয়েছিল।

অন্যান্য নেতাকর্মীদের সম্মতিক্রমে পাঁচ হাজার টাকা দৌলতপুরের ইফতার পার্টিতে দেওয়া হয়েছে। আর অবশিষ্ট ৩৭ হাজার টাকা জেলার প্রধান সমন্বয়কারী টনি, যুগ্ম সমন্বয়কারী তাসের, কুমারখালী যুগ্ম সমন্বয়কারী আলীসহ জেলার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আমার কাছ থেকে নিয়ে নিয়েছে। আমি কোনো অনিয়ম করিনি।’

হেলাল উদ্দিন বলেন, দলের কিছু অসাধু নেতারা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে ষড়যন্ত্র করে দল থেকে সরানোর চেষ্টা করছে। শোকজের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী জান্নাতুল ফেরদৌস টনি বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। সঠিক হিসাবনিকাশের জন্য তাদের শোকজ করা হয়েছে।

৩৭ হাজার টাকা বুঝে পাওয়ার বিষয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস টনি বলেন, ‘হেলাল সাহেব নিজেই প্রকল্পের পিআইসি। শাড়ি- লুঙ্গি তিনি (হেলাল) নিজেই কিনেছেন। আমাকে নয়, আমার উপস্থিতে কুমারখালীর নেতাকর্মীরা ৩৭ হাজার টাকা বুঝে নিয়েছেন। আরও অনিয়ম আছে কি না, তার জবাবের জন্য শোকজ করা হয়েছে।’