১৯ মার্চ ২০২৬, ১৬:২০

ঈদযাত্রায় হতাহতের ঘটনায় শোক ও উদ্বেগ জামায়াত ইসলামীর

ঈদযাত্রায় হতাহতের ঘটনায় শোক ও উদ্বেগ জামায়াত ইসলামীর  © টিডিসি

দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক, নৌ ও রেলপথে দুর্ঘটনায় হতাহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক, দুঃখ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় লঞ্চ সংঘর্ষে মো. সোহেল (২২) নামে এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং বগুড়ার আদমদীঘিতে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, এসব মর্মান্তিক ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়; বরং দেশের পরিবহন ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও দুর্বল তদারকির ফল। সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান, নিখোঁজদের দ্রুত সন্ধান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও যাত্রীচাপ বৃদ্ধি পেলেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, সতর্কতা ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা হয়নি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, সড়কে চাঁদাবাজি এবং যাত্রীদের ভোগান্তির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দুর্ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ঈদযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং চাঁদাবাজি বন্ধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এছাড়া তিনি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনের আহ্বান জানান।

অপর এক বিবৃতিতে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদকে ঘিরে লাখো মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে ছুটে গেলেও যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়ক, রেল ও নৌপথে যানজট, টিকিট সংকট, অনিয়ম ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, একটি অসাধু চক্র সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে, যা অমানবিক ও অনৈতিক। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিবৃতিতে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরসমূহ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যাত্রীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সাশ্রয়ী ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট কালোবাজারি ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে কঠোর নজরদারি জোরদার করতে হবে।