১২ মার্চ ২০২৬, ২০:১১

চুপ্পুর পদত্যাগ আন্দোলনের সময় বিএনপি বলেছিল ‘সময় প্রয়োজন’: নাসীরুদ্দীন 

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী  © টিডিসি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, যেসময়ে বঙ্গভবনে চুপ্পুর পদত্যাগের জন্য আন্দোলন হচ্ছিল, সেই সময় বর্তমান আর্মি প্রধান ওয়ার্কার সাহেব আমাদের কাছে সময় চেয়েছিলেন, যে আমাকে একটু সময় দাও, আমি দেশে এসে এটার একটা ব্যবস্থা করব। সেই সময় আমরা ধৈর্য ধারণ করেছিলাম রাষ্ট্রের স্টেবিলিটির জন্য। বিএনপিও বলেছে একটু সময় নেওয়া প্রয়োজন। পরবর্তীতে এইসব আওয়ামী লীগের যেগুলা এক্সপেন্সার আছে অটোমেটিক বিদায় হয়ে যাবে। কিন্তু আজকে আমরা দেখলাম যারা আওয়ামী লীগের এক্সপেন্সারকে, ক্ষমতার মুখে তারা  ঘাড়ে তুলে নিয়েছে। 

আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাজধানীর কাটাবনে ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্সের ইফতার মাহফিলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মন্তব্যের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এরআগে বিকেলে সংসদ অধিবেশন মুলতবি শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, এই রাষ্ট্রপতিই ৫ ও ৬ আগস্ট তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং তার কাছেই অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা শপথ নিয়েছেন। তাদের দু-একজন এই সংসদেও আছেন। তাহলে এখন এই বিরোধিতা কেন?
 
এর জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, সেই সময় আমরা কিন্তু চাইনি (রাষ্ট্রপতিকে), শুধু একমাত্র বিএনপির কারণে....। আমি প্রত্যেকটা পলিটিক্যাল পার্টির দরজায় নক করেছিলাম।  মির্জা ফখরুল থেকে শুরু করে জামায়াত ইসলাম, ইসলামিক আন্দোলন প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের কাছে গিয়েছিলাম, এই চুপ্পুর পদত্যাগ দাবিতে। আমরা মাঠে আন্দোলনরত ছিলাম।

সংসদ অধিবেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি করেছে তারেক রহমানের হাত ধরে। পার্লামেন্টারি সেশনের মধ্য দিয়ে, সাংবিধানিক ও বৈধতার পথ দেখিয়ে আবার আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের সূচনা হয়েছে—এমন একটি বাস্তবতা আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরিবারের একজন সদস্যের হাত দিয়ে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন শুরু হবে—এটা আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল। কিন্তু তিনি সেটি করে দেখিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এই সংসদটি এক অদ্ভুত ধরনের সংসদে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগের, প্রধানমন্ত্রী বিএনপির, আর বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতের। অর্থাৎ একটি খিচুড়ি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু সেই খিচুড়ির মধ্যে যদি আওয়ামী লীগ থাকে, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ সেই খিচুড়ি খাবে না—এটাই আমাদের স্পষ্ট বার্তা। যদি এই সমস্যার সমাধান সংসদের ভেতরে না হয়, তাহলে হয়তো এর ফয়সালা রাজপথেই করতে হবে। যদি সেই পরিস্থিতিতে আমরা বঙ্গভবনের সামনে যাই, তখন আমাদেরকে দোষারোপ করবেন না—তোমরা কেন বঙ্গভবনের সামনে গেলে? তখন আমাদের আন্দোলনকে ভিন্নভাবে আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করবেন না।

প্রধানমন্ত্রীর সামলোচনা করে তিনি বলেন, তিনি দিল্লির কাছে মাথা নত করেছেন। তাই আমরা তাকে আহ্বান জানাতে চাই—আপনি দিল্লির আধিপত্যবাদ থেকে বের হয়ে আসুন, মার্কিন আধিপত্যবাদ থেকেও বের হয়ে আসুন। বাংলাদেশে অসংখ্য মানুষ আছে যারা দেশের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত। আপনি যদি সেই মানুষের কাছে না গিয়ে অন্য শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করেন, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ একসময় আপনার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।

এসময় বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের সুস্থতা কামনা করে দোয়া চেয়ে বলেন, ঢাকা-৮ আসনে আমার সহযোদ্ধা মির্জা সাহেব অসুস্থ হয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আল্লাহ উনাকে সুস্থতা দান করুক সেই প্রার্থনা আমি করি।