আমাদের কন্যারা বাস্তব জীবনের মেয়ে, যাদের স্বপ্নও বাস্তব: জাইমা রহমান
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে প্রধানমন্ত্রী কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান বলেছেন, গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশের নারী ও তরুণীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা এবং সময় কাটানোর সৌভাগ্য হয়েছে। আমি তাদের প্রত্যাশা ও স্বপ্নের কথা শুনেছি। তাদের ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করেছি। তাই আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আমাদের কন্যাদের পক্ষেই কথা বলতে চাই। আমাদের কন্যারা বাস্তব জীবনের মেয়ে, যাদের স্বপ্নও বাস্তব। তাদের চোখে জ্বলে ওঠে সফলতার প্রয়াস, কৌতূহল ও দৃঢ় সংকল্পের আলো।
রবিবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ভেরিফাইড পেজে দেয়া এক পোস্টে জাইমা এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কন্যা জাইমা রহমান বলেন, আমরা যদি আমাদের কন্যাদের নিরাপত্তা দিতে এবং তাদের স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়িত করতে বারবার ব্যর্থ হই, তবে বাংলাদেশ কীভাবে এগিয়ে যাবে?
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখনো অনেক মেয়ে এমন পরিবেশে বড় হচ্ছে, যেখানে নিরাপত্তার চেয়ে ভয়ই খুব কাছের বাস্তবতা। ইউনিসেফের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে ৯ জনই প্রতি মাসে কোনো না কোনো ধরনের সহিংস আচরণের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়।
জাইমা বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে শিশুধর্ষণ ও যৌননিপীড়নের একাধিক ন্যাক্কারজনক ঘটনা গোটা দেশ ও জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইউনিসেফ সতর্ক করেছে যে শিশুদের বিশেষ করে কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার রিপোর্ট উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে। কিশোরী মেয়েরাও সহিংসতার ঝুঁকির বাইরে নয়। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, কিশোরী মেয়েদের ২৮ শতাংশ গত ১২ মাসে শারীরিক বা মানসিক সহিংসতার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের আরও একটি কঠিন বাস্তবতা হলো বাল্যবিবাহ। বাংলাদেশে এখনো ২০-২৪ বছর বয়সী নারীদের প্রায় অর্ধেকের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই। বাল্যবিবাহ কোনো মেয়েকে সুরক্ষা দেয় না বরং এটি তার শৈশব কেড়ে নেয়। তার শিক্ষা ব্যাহত করে এবং স্বাবলম্বী হয়ে স্বাধীনভাবে জীবন গড়ার পথকে আরও কঠিন করে তোলে।
জাইমা বলেন, এ বছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য হলো- “Rights. Justice. Action. For ALL Women and Girls” —এটি কেবল একটি স্লোগান হয়ে থাকলে চলবে না। এর বাস্তব অর্থ থাকতে হবে। এর অর্থ হতে হবে আমাদের কন্যাদের পরিপূর্ণ সুরক্ষা দেওয়া, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা এবং দেশের প্রতিটি কন্যার জন্য এমন সুযোগ তৈরি করা যাতে তারা শিক্ষা নিতে পারে, বিকশিত হতে পারে, কাজ করতে পারে এবং নেতৃত্ব দিতে পারে।
ব্যারিস্টার জাইমা বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়বে এদেশের কন্যারাই-সেই লক্ষ্যে আমাদের কন্যারা যেন স্বপ্ন দেখার নিরাপত্তা পায়। জ্ঞানার্জন ও নেতৃত্বের নিরাপত্তা পায় এবং নিজের স্বকীয়তায় জীবন গড়ার ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।