০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩:২৪

রাজশাহীতে ঈদের ইমাম নির্ধারণ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে নিহত-১

নিহত জামায়াত সমর্থক   © টিডিসি ফটো

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার সাকোয়া গ্রামে আসন্ন ঈদুল ফিতরের নামাজের ইমাম নির্ধারণের জেরে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ঘটা এই সংঘর্ষের ঘটনায় মো. আলাউদ্দিন (৬০) নামে একজন জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক নিহত হয়েছেন। নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতা রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধ করে অগ্নিসংযোগ ও যানবাহন ভাঙচুর করায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

 বর্তমানে ওই মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাতে কোন ইমাম নামাজ পড়াবেন, তা নিয়ে সাকোয়া গ্রামে দুই দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করা হয়েছিল। আলোচনার একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং মুহূর্তেই তা ভয়াবহ হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই পরিস্থিতির খবর পেয়ে সাকোয়া গ্রামের মো. আলাউদ্দিন পরিস্থিতি শান্ত করতে বা মীমাংসা করতে এগিয়ে যান। স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের আঘাত ও ধস্তাধস্তির কারণে ৬০ বছর বয়সী এই প্রবীণ ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আনোয়ার বলেন, ঈদের জামাত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই কিছুটা কথা কাটাকাটি চলছিল। আজ রাতে যখন আলোচনা শুরু হয়, তখন হুট করেই পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চিৎকার-চেঁচামেচির এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হলে আলাউদ্দিন ভাই মাঝখানে পড়ে যান। তিনি মূলত পরিস্থিতি শান্ত করতেই এগিয়ে এসেছিলেন। পরিস্থিতি এত দ্রুত খারাপ হবে আমরা কেউ ভাবিনি। ধস্তাধস্তির মধ্যে আলাউদ্দিন ভাই গুরুতর আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মানুষ যখন দেখল তিনি আর নড়াচড়া করছেন না, তখন চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা জসিম বলেন, আলাউদ্দিন ভাইয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে মুহূর্তের মধ্যে লাঠিসোটা নিয়ে লোকজন রাস্তায় নেমে আসে এবং ক্ষোভে মহাসড়কে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।

আলাউদ্দিনের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে সাকোয়া গ্রামে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মী ও স্থানীয়রা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিক্ষুব্ধ জনতা রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের ওপর গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে এবং মহাসড়কে থাকা অন্তত দুটি যাত্রীবাহী বাস ভাঙচুর করে। দীর্ঘ সময় ধরে সড়ক অবরোধ থাকায় মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যাত্রীসাধারণ ভোগান্তির শিকার হন।

মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, 'ইমাম নির্ধারণের মতো একটি ধর্মীয় বিষয় নিয়ে দুই রাজনৈতিক দলের স্থানীয় সমর্থকদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের সূত্রপাত। খবর পাওয়া মাত্রই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। ৬০ বছর বয়সী আলাউদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।'

ওসি এস এম মঈনুদ্দীন আরও জানান, 'আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত মহাসড়কে বিক্ষোভ চলছিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।