নেপালের থেকে বাংলাদেশের নির্বাচনে অভ্যুত্থানের প্রভাব বেশি ও নিরুঙ্কুশ: আখতার
নেপালের নির্বাচনের থেকে বাংলাদেশের নির্বাচনে অভ্যুত্থানের প্রভাব বেশি ছিলো বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার মতে নেপালে অভ্যুত্থানকারীদের দল আরএসপি’র জয়কে যারা এনসিপি’র সঙ্গে তুলনা করছেন তারা বাংলাদেশকে অভ্যুত্থানের শক্তিকে বিভক্ত করতে চায়। আজ শনিবার (৭ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ ভেরিফায়েড আইডিতে এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নেপালের নির্বাচন, বাংলাদেশের নির্বাচন এবং গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে আপনার যে প্রশ্ন তারই প্রেক্ষিতে যদি সংক্ষেপে বলি নেপালের নির্বাচনে গণ-অভ্যুত্থানের যে প্রভাব তার থেকে বাংলাদেশের নির্বাচনে গণ-অভ্যুত্থানের প্রভাব বেশি এবং সেটা নিরঙ্কুশ। নেপালের নির্বাচনে গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে এবং বিপক্ষে উভয় শক্তিরাই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আসন পেয়েছে, কম হোক আর বেশি হোক। যদিও অভ্যুত্থানকারীরা তারা সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যারা অভ্যুত্থানের বিপক্ষে ছিল তারা কোনভাবেই এই সংসদে আসতে পারে নাই। এবারের যে সংসদ এটা পুরোমাত্রায় অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তির সংসদ।
তিনি আরও বলেন, যারা সরকারি দলে আছেন বিএনপি, যারা বিরোধী দলে আছেন এনসিপি, জামায়াত ইসলামী এবং অন্যান্য যে ছোট দলগুলো সবাই চব্বিশের অভ্যুত্থানের সময়টাতে অভ্যুত্থানের পক্ষে তারা ছিলেন। অভ্যুত্থানের বিপক্ষে থাকা আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে নাই। কিন্তু আওয়ামী লীগের দোসর জাতীয় পার্টি, বাম কিছু দল, সুন্নি জোট তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। সবগুলো দল মিলে কোন আসনেই তারা জিততে পারেন নাই এবং মাত্র তিনটি আসনে তারা জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন। প্রায় সবগুলো আসনে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
এনসিপি সদস্য সচিব বলেন, নেপালের যে নির্বাচন সেখানে তরুণদের যে দল, গণ-অভ্যুত্থানের যে দল আরএসপি, অনেক আগে থেকে তৈরি হওয়া একটা দল। ২০২২ সালে যাদের জন্ম এবং সংসদে তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিনিধিত্বেরও ইতিহাস রয়েছে। তারপরও এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারা সংসদে সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করল, আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু সেই ঘটনার সূত্র ধরে যারা নানা কারণে এনসিপিকে তুলনায় নিয়ে আসছেন, তারা কার্যত বাংলাদেশে অভ্যুত্থানকারী দল বলতে শুধু এনসিপিকেই চিহ্নিত করতে চান। অন্য যে দলগুলো বিএনপি বা জামায়াত, যারা অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি ছিলেন, অন্তত অভ্যুত্থানকালীন সময় পর্যন্ত তাদের যে ভূমিকা সেটাকে তারা বেমালুম চেপে যান।
রংপুর-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, নেপালের নির্বাচনে তাদের গণ-অভ্যুত্থানের যে প্রভাব তার থেকেও বাংলাদেশের নির্বাচনে গণ-অভ্যুত্থানের প্রভাব বেশি। সেটা বেশি দৃশ্যমান এবং সেটা বেশি পরিমাণে, সেটা এখানে সফল। কারণ এবার বাংলাদেশের ২০২৬ এর যে নির্বাচন এই নির্বাচনে কোনভাবেই গণ-অভ্যুত্থানের বিপক্ষে থাকা কেউ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু নেপালে কয়েকটি আসন হলেও তারা পেয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশকে যারা বিভক্ত করতে চায় অর্থাৎ অভ্যুত্থানের পক্ষে শক্তিগুলোকে যারা ডিমেইন (অবমূল্যায়ন) করতে চায়, যে অভ্যুত্থানটা এখানে জনতার অভ্যুত্থান হিসেবে ছিল না। তারা এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে অর্থাৎ অভ্যুত্থানের বিপক্ষে থাকা শক্তিগুলো আছে তাদের পক্ষে যারা বয়ান উৎপাদন করতে চায়, তারা জেনে বুঝে একটা ফ্যালাসি (বিভ্রান্তি) মধ্য দিয়ে নিয়ে গিয়ে এই ধরনের একটা পরিস্থিতি তারা তৈরি করতে চায়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অভ্যুত্থানের বিপক্ষে থাকা আওয়ামী লীগ এবং তাদের যারা দোসর আছে জাতীয় পার্টি, বাম কিছু দল এবং সুন্নি জোট যারা তারা এবারের নির্বাচনের জামানত রক্ষা করতে পারে নাই। অতএব অভ্যুত্থানের পক্ষশক্তিই বাংলাদেশের এখন সংসদে। যে নয়টি দল থেকে সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হয়েছেন তারা সকলে অভ্যুত্থানের পক্ষে ছিলেন। অভ্যুত্থানের শক্তি বাংলাদেশে জয়ী হয়েছে অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোই বাংলাদেশের নীতির জায়গাটাতে কাজ করবে। সামনের দিনে এই অভ্যুত্থানকে তারা কতটা সুরক্ষিত করতে চায় সেই কমিটমেন্টের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের মানুষেরা এই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে প্রত্যেকটা দলের যে ভূমিকা সেটাকে তারা মূল্যায়ন করবে।