ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের রাজসাক্ষী রিজওয়ানা হাসান : গোলাম পরওয়ার
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একজন প্রত্যক্ষ রাজসাক্ষী বলে উল্লেখ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, ‘মেইনস্ট্রিম বলতে পার্লামেন্টে মেজরিটি পেতে দেন নাই। এটাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং। আপনার কথাই তো প্রমাণ করে আপনারা আমাদের মেজরিটি পেতে দেননি। আপনার সঙ্গে আর কে কে ছিলেন, তাদের নাম প্রকাশ করুন।’
আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) বাদ জুমা রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এই অভিযোগ করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন। দুঃখ ও রহস্যের জন্ম দিয়েছে তখন, যখন ভোট গণনা, ফলাফলের প্রক্রিয়া পুরোটাই ছিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভরা। দক্ষ ইঞ্জিনিয়াররা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছে। ১১টা পর্যন্ত জামায়াতের বিপুল বিজয়ের সম্ভাবনা ছিল, সেখানে রাত ১০টার দিকে নির্বাচন সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপরই অল্প অল্প ভোটে জামায়াতের পরাজয়ের খবর আসে।’
বাম সেজে দেশকে অস্থিতিশীল করতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যারা চক্রান্ত করেন, তারাই মেইনস্ট্রিম। কী জবাব দেবেন? এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে ১৭০টিরও বেশি আসন আমরা পাব। কিন্তু পরিকল্পনা করে ১০০-এর নিচে নামানো হলো। ফলাফলপত্রে টেম্পারিং করা হয়েছে, কাটাছেঁড়া করা হয়েছে। অনেক এজেন্টের কাছ থেকে ফল গণনার আগেই ফলাফলপত্রে সই নেওয়া হয়েছে।’
উগ্রবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রশ্নে বলেছেন, অতীতে দেখা যায় যারা কারচুপি করে, তারা বলে আমি কলা খাইনি, ঠিক তেমনি তাদের মুখ থেকেই বেরিয়ে যাবে। রাজসাক্ষী পেয়ে গেছি আমরা। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসনকে বলছি, আপনি ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন মিডিয়ায়। বলেছেন, উগ্রবাদী এবং তাদের মেইন স্ট্রিমে আসতে দেই নাই। বিরোধী দলে কোনো উগ্রবাদী নেই। সংসদে কোনো উগ্রবাদী নেই। ইসলাম কোনো চরমপন্থাকে প্রশ্রয় দেয় না। আপনারা নারীবাদী হয়ে যা বলেন, তার চেয়ে হাজার গুণ মর্যাদা নারীকে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আনন্দবাজারের সঙ্গে আবার বললেন, মবের স্বীকার হলে জামায়াত-শিবিরকেই দায়ী থাকতে হবে, এগুলো উসকানি। জামায়াত ইসলামী মবের রাজনীতি করে না। আপনার কথাই তো প্রমাণ আপনারা আমাদের মেজরিটি পেতে দেননি। আপনার সঙ্গে আর কে কে ছিলেন তাদের নাম প্রকাশ করুন।’
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘লন্ডন কন্সপাইরেসির হোতা ড. খলিলুর রহমান। নির্দলীয় সরকারের প্রথা থাকে যে ইমিডিয়েট সরকারে তারা যোগদান করে না, কেউ করেনি। বিএনপিও আপনার বিরুদ্ধে কথা বলেছে। শুধু ইচ্ছা করেই এই সরকারে যোগ দেন নাই। ডিপ স্টেটে যারা রয়েছেন, তারাই আপনাকে পিক করেছে। আপনার সার্ভিসে তারা এত খুশি যে, আগের সব দোষ ভুলে গেছে। আপনাদের সহযোগীদের নাম প্রকাশ করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওই সময় আপনি এমন কিছু করেছেন, যার জন্য মন্ত্রিত্বের পুরস্কার পেয়েছেন। উভয় পক্ষের প্রেম এমনি এমনি হয়নাই। গুড় খাইলে গুণ গাইতে হয়।’
সংঘাত-সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চান না জানিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘সাবেক উপদেষ্টার কথা প্রমাণ করে তিনি একটা মন্দ কাজে জড়িত ছিলেন। আমাদের সব কর্মসূচি প্রকাশ্যে হয়, সমাজের অনেক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অনেক অপকর্ম করে তা ইসলামপন্থিদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন। আমরা তার প্রতিবাদ জানাই।’
রিজওয়ানা হাসানের উদ্দেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা আপনার বক্তব্যের প্রতিবাদ করে জুডিশিয়াল তদন্ত চেয়েছি। আপনি বলে ফেললেন মবের স্বীকার হলে জামায়াত-শিবিরকে দায়ী হতে হবে। এত উত্তেজিত হলে চলবে কীভাবে?’
দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রগ কাটার গুজব উড়িয়ে দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সরকার শুরু থেকেই গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে পারত। সিটি করপোরেশনে দলীয় লোক বসানো, সংসদ অধিবেশনের আগের রদবদল কর্তৃত্ববাদী মনোভাবেরই প্রকাশ হয়।’
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘জুলাই সনদকে বিএনপি এড়িয়ে যাচ্ছে। আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে জনগণের ওপর জুলাই সনদকে ফায়ারের চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’