০৫ মার্চ ২০২৬, ২২:১৬

‘বিরোধী দল তো অবশ্যই মেইনস্ট্রিম, যা বলার চেষ্টা হচ্ছে তা অবান্তর’

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান  © সংগৃহীত

বিরোধী দলে থাকা ‘নারীবিরোধী’ শক্তি যেন কখনও মেইনস্ট্রিম হতে না পারে, আমরা সেই কাজটি করতে পেরেছি, তাদেরকে আমরা মেইনস্ট্রিম হতে দিইনি— একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন বক্তব্যের পর বিতর্কের জেরে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুক পোস্টে এই ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন।

ওই পোস্টের শুরুতে শফিকুল আলম ইংরেজিতে লিখেছেন, ‘Here is a response from former Adviser Syed Rizwana Hasan. Her comments in a TV interview have been deliberately misinterpreted by some people. She spoke about the extremists.’

এরপর ‘She said:’ লিখে সৈয়দা রিজওয়ানার বক্তব্য তুলে ধরেন শফিকুল আলম। সৈয়দা রিজওয়ানা বলেন, ‘সালাম। আজকে আমার বক্তব্যটা খণ্ডিত করে প্রচার করছে, যদিও ভিডিও টা কালকের। কথা হচ্ছিল নারীর প্রতি উগ্রবাদ নিয়ে। প্রশ্নটি ছিল এরকম- ৬. মাজারে হামলা, বাউলদের উপর নির্যাতন, নারীদের নিয়ে নানা কটূক্তি, আপনি কীভাবে দেখেছেন সেই সময়? অনেকেই বলেছে, উগ্রপন্থীদের সুযোগ দিয়েছে সরকার? আমি বলেছি, যারা কটূক্তি করেছে তাদের বিষয়ে নারী সমাজ যেমন প্রতিবাদ করেছে, লিগ্যাল নোটিস দিয়েছে, সরকারও কথা বলেছে। ফলে তারা ক্ষমা চেয়েছে। সেই সব কটূক্তি করা শক্তি যেন মেইনস্ট্রিম (মানে সমাজে প্রাধান্য সৃষ্টিকারী) না হয় সেটার বিষয়ে আমাদের (মানে নারী সমাজকে) কাজ করতে হবে।’

ব্যাখ্যায় সৈয়দা রিজওয়ানা আরও বলেন, ‘নারী সমাজ (সরকার না) সেই সব কটূক্তি করা শক্তিকে মেইনস্ট্রিম হতে দেয় নাই। এখানে আমার বক্তব্যে নির্বাচনের কথাই তো আসে না। উপস্থাপক কথার মাঝখানে হঠাৎ নির্বাচনের কথা তুললে আমি বলেছি বিরোধী দলের যেইটুকু নারীর ক্ষমতায়নের সাথে সম্পৃক্ত, আমরা সেটা নিয়ে কাজ করব। আমি কোনও দলের নাম উচ্চারণও করি নাই, আর বিরোধী দল তো অবশ্যই mainstream, সুতরাং যেটা বলার চেষ্টা করা হচ্ছে, তা তো অবান্তর। ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে, () এ দলের নাম দিয়ে প্রচার করছে, যা অনাবশ্যক বিভ্রান্তি তৈরি করছে।’

এর আগে গতকাল বুধবার উপস্থাপনায় চ্যানেল ওয়ানের ‘মুখোমুখি’ নামক একটি অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন। তবে বুধবার (৪ মার্চ) রাত থেকে এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নয়ন আদিত্য দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় উগ্রবাদীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। এর জবাবে সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, উগ্রবাদীদের সঙ্গে সখ্যতা করে অন্তর্বর্তী সরকারের কী লাভ? একটি শক্তি আছে— যে শক্তি আগে বিএনপি সরকারের সময় নারী নীতি বদলে দিয়েছিল। সেই শক্তি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কোনো নীতি বদলাতে পারেনি।

এর প্রেক্ষিতে উপস্থাপক নয়ন আদিত্য বলেন, সেই শক্তির একটি অংশ বর্তমানে বিরোধী দলে আছে। এরপর রিজওয়ানা হাসান বলেন, বিরোধী দলে থাকলেও তাদের রাজনীতির যে অংশ নারীবাদ, নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর সমান অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে— সে অংশ নিয়ে আমার-আপনার কাজ করা উচিত। কখনও যেন সেই শক্তি মেইনস্ট্রিম হতে না পারে, আমরা সেই কাজটি করতে পেরেছি। তাদেরকে আমরা মেইনস্ট্রিম হতে দিইনি।

এদিকে সাবেক উপদেষ্টার এমন বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বক্তব্যে ‘বিরোধী দল’ কথাটি উল্লেখ থাকায় বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হয়। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে ‘মীর জাফর’ আখ্যা দিয়ে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে’ তার জড়িত থাকার অভিযোগও তুলেছে দলটি।