০৫ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৬

কলাপাড়ায় ইদ্রিস হত্যা, যুবদল নেতা জহিরুলকে বহিষ্কার

জহিরুল ইসলাম ও বহিষ্কারের প্রেস বিজ্ঞপ্তি  © সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মারধরে আহত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস খান (৪৫) মৃত্যুর ঘটনায় নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়ার স্বাক্ষরিত ৪ মার্চের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলীয় নীতি-আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন–এমপির সিদ্ধান্তে এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হয়।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ইদ্রিস দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামের মৃত ইউসুফ খানের ছেলে। তিনি ঢাকায় সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ফেসবুকে একটি পোস্ট ও মন্তব্য করেন ইদ্রিস। ওই পোস্টে গরু চুরিসহ নানা অভিযোগ তোলা হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জহিরুল ও তার অনুসারীরা ইদ্রিসের ওপর চড়াও হন।

অভিযোগ রয়েছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পাখিমারা বাজারে গেলে ইদ্রিসকে ডেকে ইউনিয়ন যুবদল অফিসে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করান। পরে সোমবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) নিহতের পরিবার লাশ নিয়ে কলাপাড়া থানায় গেলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে কলাপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলার করা হয়েছে। নিহতের নিকটাত্মীয় আবুবকর খান বাদী হয়ে করা মামলায় জহিরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা নম্বর-৪।

নিহতের স্ত্রী আমেনা খাতুন অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে পাখিমারা বাজারে ডেকে নিয়ে প্রথমে পানি খাওয়ার জগ ছুড়ে মারা হয়, পরে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়। তিনি দাবি করেন, তার স্বামী হাত-পা ধরে ক্ষমা চাইলেও মারধর থামানো হয়নি। ওই আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

তবে জহিরুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ইদ্রিস তার কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছিলেন এবং তাকে কেউ মারধর করেনি। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে তদন্ত চলছে।

এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পাখিমারা বাজারে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।