সরকার ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটলে ছাত্রজনতা জুলাইয়ের পথে হাঁটবে: জুলাই ঐক্য
আদালত জুলাইকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে দাবি করে ‘জুলাই ঐক্য’ জানিয়েছে ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে জুলাইয়ের অধিকার রক্ষায় সব চক্রান্ত ধূলিসাৎ করে দেওয়া হবে। এছাড়াও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের সব ধরণের অবৈধ পদক্ষেপ রুখে দিতে প্রস্তুত বলে হুশিয়ারি জানিয়েছে এই মোর্চা। আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জুলাই ঐক্যের সংগঠক মুন্সি বুরহান মাহমুদ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ স্থগিত করার জন্য রিটে জুলাই সনদ, গণভোট, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, অধ্যাদেশ ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের শপথ গ্রহণকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। জুলাই প্রশ্নে বিএনপির এই অবস্থান জাতির সাথে সরাসরি গাদ্দারির শামিল।দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে - এই রিটের পেছনে সরকারের স্পষ্ট পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, সরকার শুধু জুলাইয়ের উপর আঘাত করেই থেমে থাকছে না। সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, সংবিধিবদ্ধ স্বতন্ত্র সংস্থা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে মব সৃষ্টি করে গভর্নরকে বের করে দেওয়া, দুদকের প্রধান কমিশনারসহ কমিশনারদের পদত্যাগে বাধ্য করা এবং প্রশাসনকে দলীয় করণের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার সংস্কার প্রস্তাবকে পার্লামেন্টকে বাইপাস করে কোর্টের মাধ্যমে সেটেল করে এক ধরনের স্থিতাবস্থা বা এক ধরনের সুবিধা নেয়ার জন্য চেষ্টা করছে। একদিকে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলছে, অপরদিকে আদালতে দরীয় বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে দ্বিচারিতা করছেন। সরকার এসব অসাংবিধানিক ও অবৈধ কার্যক্রম থেকে সরে না এলে এবং দ্বিচারিতা আচরণ বন্ধ না করলে জনগণ গণপ্রতিরোধের মাধ্যমে তারা তাদের অধিকার পুনরুদ্ধার করবে।
প্রথম অধিবেশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানিয়ে জুলাই ঐক্য বলেছে, রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অভিশংসন করে গণহত্যায় জড়িত থাকার অপরাধে বিচারের আওতায় আনুন। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে সাংবিধানিক, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ স্বতন্ত্র সংস্থাগুলোর নেতৃত্বে নিয়োগ দিন। জুলাইয়ের বহু শহিদের লাশ এখনও পরিবার বুঝে পায়নি; এর আগেই রাষ্ট্র সংস্কারের পথে যে নগ্ন হস্তক্ষেপ শুরু হয়েছে, তা বন্ধ করুন। সংবিধানের যে দোহায় দেওয়া হচ্ছে সে সংবিধান মানেই গণঅভ্যূত্থান হয়নি — এই সরকার জুলাইয়ের ফসল। জুলাই যদি না থাকে, তাহলে এই নির্বাচন ও সরকারেরও বৈধতা থাকবে না।
এতে আরও বলঅ হয়, সরকার যদি বল প্রয়োগ করে ভারতের বা অন্য দেশের সহযোগিতায় বাংলাদেশে আবারও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়, তাহলে আমরাও জুলাইয়ে ফিরবো। আমরা ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে বিপ্লবের পথে হাঁটবো। সব বিদেশী রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জুলাইয়ের অধিকার আদায় করা হবে।