কর্মীকে দেখতে গিয়ে হাতে শটগান নিয়ে ছবি, বিতর্কের মুখে বিএনপি নেতা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক দলীয় কর্মীকে দেখতে গিয়ে প্রকাশ্যে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন বিএনপি নেতা আবু তাহের। হাতে থাকা শটগানটি লাইসেন্সকৃত বলে দাবি করা হলেও, জনসমক্ষে এর প্রদর্শন এবং ছবি তোলা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার (২ মার্চ) ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুর ছাপা সাবু সম্প্রতি এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। গত শনিবার তাকে দেখতে তার বাড়িতে যান আবু তাহের। তিনি স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর বেয়াই এবং তার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে পরিচিত।
আহত কর্মীর খোঁজখবর নিয়ে ফেরার আগে আবু তাহের সোফায় বসে অন্যান্য নেতা-কর্মীদের সঙ্গে একটি ছবি তোলেন। ছবিতে দেখা যায়, তার হাতে একটি শটগান রয়েছে। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়।
বাংলাদেশে লাইসেন্সধারী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ও বহনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন ও নীতিমালা রয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র আইনের অধীনে এর লাইসেন্স প্রদান, ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ক্ষমতা সরকার ও জেলা প্রশাসনের ওপর ন্যস্ত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারি করা লাইসেন্সের শর্তাবলীতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে যে, কোনো লাইসেন্সধারী ব্যক্তি তার আগ্নেয়াস্ত্র জনসমক্ষে প্রদর্শন করতে পারবেন না।
আইন অনুযায়ী, আত্মরক্ষার প্রয়োজনে অস্ত্র বহন করা গেলেও তা এমনভাবে রাখতে হবে যেন জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি না হয় বা তা দৃষ্টিগোচর না হয়। প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন বা অপ্রয়োজনে তা বহন করা আইনশৃঙ্খলার পরিপন্থী হিসেবে গণ্য হতে পারে। শর্ত ভঙ্গ করলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করার এখতিয়ার রাখেন এবং গুরুতর ক্ষেত্রে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের বিধানও রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা আবু তাহের বলেন, ‘আমার সঙ্গে বৈধ অস্ত্র থাকাটা স্বাভাবিক বিষয়। আমি কোনো বেআইনি কাজ করিনি। জামায়াত-শিবিরের কিছু লোক বিষয়টি না বুঝে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফেসবুকে অপপ্রচার চালাচ্ছে’।
অন্যদিকে, সীতাকুণ্ড মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর বলেন, ‘অস্ত্রটি লাইসেন্স করা বলে আমরা জানতে পেরেছি। ওই সময় ওনার গাড়িতে কেবল চালক ছিলেন, তাই নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি অস্ত্রটি গাড়িতে না রেখে সাথে নিয়ে ভেতরে গিয়েছিলেন। এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে’।