০১ মার্চ ২০২৬, ১৬:৫৫

সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে নতুন সমীকরণে বরগুনা বিএনপি

সংরক্ষিত নারী আসনের কয়েকজন প্রার্থী  © সংগৃহীত

বরগুনায় জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম সামনে আসার পাশাপাশি গুরুত্ব পাচ্ছে আরেকটি প্রশ্ন—এই আসনের নেতৃত্ব কি সাম্প্রতিক ধাক্কার পর জেলা বিএনপিকে আবারও সংগঠিত ও গতিশীল করতে পারবে?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ (সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে বিএনপি মনোনীত জেলা সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও জয় পাননি। ওই আসনে বিজয়ী হন মাওলানা মাহমুদুল হাসান, যিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচন করেন। এ ফলাফল বরগুনার রাজনৈতিক সমীকরণে দৃশ্যমান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ক্ষমতার পালাবদল এবং নির্বাচনী ফলাফল বরগুনায় দলগুলোর সাংগঠনিক অবস্থান নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রভাববলয়ে থাকা এ জেলায় এখন নতুন করে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর স্থানীয় রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে সক্রিয় রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি।

জেলা বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরাসরি নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর দলকে তৃণমূলভিত্তিকভাবে পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। তাদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে মাঠপর্যায়ে গ্রহণযোগ্য ও সক্রিয় নেতৃত্ব এলে তা শিক্ষা, আইন ও সামাজিক উন্নয়ন খাতে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে পারে। পাশাপাশি সাংগঠনিক সমন্বয় ও তৃণমূল সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দলকে পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে বরগুনায় যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাডভোকেট আসমা আজিজ, অ্যাডভোকেট রঞ্জুয়ারা শিপু, অ্যাডভোকেট মেহবুবা আক্তার জুঁই, অ্যাডভোকেট মারজিয়া হিরা, নূর শাহানা হক, শারমিন সুলতানা আসমা, নাজমুন নাহার পাপড়ি, মীরা খান ও ইসরাত জাহান রিক্তা। কেউ কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত, কেউ জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে সক্রিয়। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত, সংরক্ষিত নারী আসন শুধু প্রতিনিধিত্বের বিষয় নয়, এটি হতে পারে জেলা বিএনপির জন্য সাংগঠনিক পুনর্জাগরণের একটি বাস্তব সুযোগ। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বয়কারী নেতৃত্ব।

তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা—এমন একজন নেত্রী মনোনীত হোন, যিনি বিভাজন নয়, সমন্বয়ের রাজনীতি করবেন এবং নতুন বাস্তবতায় বরগুনায় বিএনপিকে সংগঠিত ও কার্যকর অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবেন।