নীলফামারী জেলা এনসিপির আহ্বায়ককে অব্যাহতি
দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে নীলফামারী জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. আব্দুল মজিদের পদ সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে দলের দফতর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানানো হয়।
এতে উল্লেখ করা হয়, কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা এক পত্রের মাধ্যমে তার পদ ও সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, কেন তাকে স্থায়ীভাবে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে না—এ মর্মে আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে এনসিপি'র মূখ্য সংগঠন (উত্তরাঞ্চল) জনাব সারজিস আলম বরাবর লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে দলীয় বিধি অনুযায়ী পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নীলফামারী জেলা এনসিপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা গণমাধ্যমকে জানান, জেলা আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর মো. আব্দুল মজিদ একাধিক নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একক সিদ্ধান্তে বহিরাগত কয়েকজনকে দিয়ে অনুমোদনহীন ও ভুয়া জেলা ছাত্র শক্তির কমিটি গঠন করেন, যা দলের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।
নেতারা আরও জানান, তিনি নিজের ইচ্ছেমতো বিভিন্নজনকে পদ-পদবি দেওয়া, নেতাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং প্রকাশ্যে হেয় করার মতো আচরণে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি দলের ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করে নিজস্ব বলয় গড়ে তুলে অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং তৈরির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে মো. আব্দুল মজিদ বলেন, ‘আমার কোনো পদ স্থগিত হয়নি। এটি মিসগাইড হয়েছে, আমি নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। কল রেকর্ডের বিষয়ে তিনি বলেন পার্টির অফিসের জন্য খরচ চাওয়া হয়েছে।’