পুলিশ হত্যার বিচারের আগে অভ্যুত্থানে নিহতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে: নাহিদ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শোনা যাচ্ছে যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যার তদন্ত করা হবে। এই বিচার যদি নিশ্চিত করতে হয়, তাহলে গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের বিচার আগে নিশ্চিত করতে হবে। এই অপরাধে পুরো পুলিশ বাহিনী দায়ী ছিলো। তবে আমরা পুরো বাহিনীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাইনি। আমরা কেবল অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনতে বলেছি। পুরো পুলিশ বাহিনীকে সংস্কার করে মানুষের বন্ধু হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিএনপি বিনা কারণ ও বিনা অভিযোগে ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটরকে সরিয়ে দিলেন। বিচারে তাদের নানা ধরনের হস্তক্ষেপের কথা আমরা শুনতে পাচ্ছি। যারা ভিক্টিম এবং সাক্ষী ছিলেন, তাদের নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই সরকারের আমলে সুষ্ঠুভাবে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে কী না- তা নিয়ে জনগণের মনে সন্দেহ রয়েছে। এ সময় তিনি ট্রাইব্যুনালে হস্তক্ষেপ না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নির্লজ্জভাবে মব তৈরি করে অগণতান্ত্রিকভাবে সরিয়ে দিয়ে একজন ঋণখেলাপি ব্যবসায়ীকে গভর্নর করা হয়েছে। বিগত সময়ে এদেশের ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত গভর্নর চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন সেই টাকা ফিরিয়ে আনার। পাশাপাশি এই লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু আমরা দেখছি যে, সেই বিচার প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করতে, ঋণখেলাপীদের আরো সুযোগ-সুবিধা করে দিতে এবং আর্থিক লুটপাটের পথকে প্রশস্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক দখলের নির্লজ্জ চেষ্টা করলো সরকারি দল। এ সময় তিনি বর্তমান গভর্নরকে সরিয়ে দক্ষ, যোগ্য এবং সৎ ব্যক্তিকে গভর্নর করার আহ্বান জানান।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে এক ধরনের কথা বলেছে, পরে আরেক রকম কথা বলছে। এ বিষয়ে নির্বাচনের আগেই জনগণকে সতর্ক করেছিলাম। আমরা জানি, জনগণ তাদের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। কিন্তু নানান ইঞ্জিনিয়ারিং করে তারা ফলাফলটাকে নিজেদের পক্ষে নিতে সক্ষম হয়েছে। সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের পদ নিজেদের আওতায় করেছে। যাতে তারা নিজের মতো আইন ও বিচার তৈরি করতে পারে। যেমনটা ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলকে দূরে সরিয়ে রেখে সংবিধানকে নিজেদের মতো দেশ পরিচালনা করেছে। আজকের সরকার দল আওয়ামী লীগের পথেই হাটছে।
সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হতেই হবে জানিয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, যদি সংসদে না হয়, তাহলে সেই লড়াই রাজপথে গড়াবে। আমরা সেই লড়াই রাজপথে গড়াতে চাই না। মানুষ ভোট দিয়েছেন। যেমনই হোক, সেই ফলাফলকে মেনে নিয়ে আমরা সংসদে গিয়েছি। সংসদে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা সমস্যার সমাধান করবো। সংসদে অবশ্যই সংস্কার পরিষদ হতে হবে। তা না হলে আমরা রাজপথে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।
অনুষ্ঠানে ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল আমিন, যুবশক্তির আহ্বায়ক এডভোকেট তারিকুল ইসলাম, ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সরকার , ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ।