২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:৩৮

দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত আ'লীগ চেয়ারম্যানের ইউনিয়ন পরিষদে তালা

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান   © টিডিসি ফটো

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের অফিস দখল করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আওয়ামী লীগ নেতা ও বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ১০-১২ জন অনুসারী নিয়ে পরিষদ ভবনে হানা দিয়ে বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ শেখকে বের করে দেন। এরপর তিনি নিজেকে চেয়ারম্যান দাবি করে অফিস কক্ষে তালা লাগিয়ে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা চালান, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, ভিজিএফ ও ভিডব্লিউবিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ১১ নভেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগ জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। এরপর থেকে প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ শেখ বৈধভাবে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে মঙ্গলবার হঠাৎ করেই জাহাঙ্গীর আলম দলবল নিয়ে পরিষদে গিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে কক্ষ থেকে বের করে দেন এবং একটি জরুরি নোটিশ জারি করে নিজেকে পুনর্বহাল দাবি করেন।

এ ঘটনায় প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ শেখ সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম তার অবস্থানে অনড় থেকে দাবি করেছেন, উচ্চ আদালত তার বরখাস্তের আদেশ তিন মাসের জন্য স্থগিত রেখেছেন। অন্যদিকে আব্দুর রশিদ শেখের ভাষ্য, 'জাহাঙ্গীর আলম স্টে-অর্ডার নিলেও তার বিরুদ্ধে আমরা আপিল করেছি যা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।' প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছাড়াই তার এই কর্মকাণ্ডকে সম্পূর্ণ বেআইনি বলে দাবি করছেন তিনি।

সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, বরখাস্ত চেয়ারম্যান স্বপদে বহাল হয়েছেন এমন কোনো দাপ্তরিক তথ্য তার কাছে নেই। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, 'পরিষদের দায়িত্ব প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ শেখই পালন করছেন।' 

মঙ্গলবারের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি ইতিমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন। মাদকাসক্তি ও দুর্নীতির অভিযোগে বিতর্কিত এই নেতার এমন আচরণে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে তার স্থায়ী অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।