২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৩০

‘চাঁদা না দেওয়ায়’ যাত্রাবাড়ীতে চালককে পিটিয়ে হত্যা, দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জামায়াতের

নিহত লেগুনা চালক নুরে আলম ওরফে খায়রুল ইসলাম ও জামায়াতের লোগো  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী-চিটাগাং রোড সড়কে লেগুনা চালক নুরে আলম ওরফে খায়রুল ইসলামকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ  এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির যে অভিযোগ চলে আসছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গণপরিবহন চালকদের কাছ থেকে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সংস্থার নাম ভাঙিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রাষ্ট্র ও প্রশাসনের ভাবমর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি অথবা স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণের বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ২০ ফেব্রুয়ারি জুমাবার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী-চিটাগাং রোড সড়কে লেগুনা চালক নুরে আলম ওরফে খায়রুল ইসলামকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হল। পতিত জালিম সরকারের পতনের পর জনপ্রত্যাশার নতুন বাংলাদেশে এই হত্যাকাণ্ড কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। 

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডটি চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার বা অন্য যে কোনো কারণেই সংঘটিত হোক না কেন— এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রাবাড়ী-চিটাগাং রোডসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, খায়রুল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার ওপর নির্ভরশীল অসহায় পরিবার, ছোট্ট শিশু কন্যা ও স্বজনদের আহাজারি প্রমাণ করে এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি প্রাণহানি নয়, বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন-সম্ভাবনার নির্মম পরিসমাপ্তি। এ ধরনের ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি করে।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার নিহত খায়রুলের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, সরকারকে অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পরিশেষে তিনি দেশব্যাপী পরিবহনসহ সকল সেক্টরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজির সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।