২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:২০

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আগুন-ভাঙচুর

আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা   © সংগৃহীত

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা টায়ারে আগুন দিয়ে কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করেছে। 

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টা দিকে বিক্ষোভ করে পোড়া কার্যালয়টির ভেতরে টায়ার দিয়ে আগুন ধরিয়ে ভাঙচুর করা হয়।

এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়কারী আল নূর আয়াস, জাতীয় যুব শক্তির জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক, এনসিপির ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সদস্য মাসুদ রানা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জেলার যুগ্ম সদস্যসচিব তৌহিদ আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তারাকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের তিনতলা কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন জনতা। দীর্ঘদিন ধরে সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। 

বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের ১০ সদস্যের একটি দল ভাঙা-পোড়া আওয়ামী লীগের কার্যালয়টিতে ঢুকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। এ সময় কার্যালয়ে ব্যানার ও জাতীয় পতাকা টাঙিয়েছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির নেতা-কর্মীরা। পরে তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে রাত ৮টার দিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও এনসিপি নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের ভেতরে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় কার্যায়লয়ের ভেতরে টায়ার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় ও ভাঙচুর করা হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা তারাকান্দা থানায় গিয়ে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়কারী আল নূর আয়াস বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ দল। তাই কার্যক্রম চালাতে পারবে না। উপজেলা আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে কার্যাক্রম শুরু করেছে দেখে আমরা সেখানে গিয়েছি। স্টিকারগুলো ছিঁড়ে আগুন দিয়েছি, দেয়াল ভেঙেছি। কার্যালয়ের গেটেও তালা দিয়েছি। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাদের গ্রেপ্তার করতে থানা পুলিশকে জানিয়েছি।

এ বিষয়ে তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তানভীর আহমেদ বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কাজ করতে হয়নি। এর আগেই ধীরে ধীরে আগুন নিভে গেছে। আওয়ামী লীগ কোনো কার্যক্রম করতে পারবে না, এখানে কোনো ফ্যাসিস্ট দাঁড়াতে পারবে না।