নির্বাচনের আগে দেয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বিএনপি পালন করবে: তারেক রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে জাতির সামনে বিএনপির উত্থাপিত ৩২ দফা ও রাষ্ট্রসংস্কারে স্বাক্ষর করা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমি কথা দিচ্ছি, জনগণের কাছে দেয়া বিএনপির প্রতিটি প্রতিশ্রুতি, প্রতিটি অঙ্গীকার আমরা বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এ বিজয় বাংলাদেশের, গণতন্ত্রের ও গণতন্ত্রকামী জনগণের। পথ-মত ভিন্ন থাকতে পারে, তবে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনত্তোর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারম্যান তার প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, আজ থেকে আমরা সবাই স্বাধীন। আমাদের পথ-মত ভিন্ন থাকতে পারে, তবে দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। আর কোনো অপশক্তি যাতে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, এ জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। জনমনে সৃষ্ট সংশয় কাটিয়ে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর আমরা গণতন্ত্রের প্রধান ফটকে প্রবেশ করেছি। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে উদারপন্থী গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। এই বিজয় বাংলাদেশ, গণতন্ত্রের ও মানুষের আকাঙ্খার বিজয়। বাংলাদেশের মানুষকে অনেক বাঁধা পেরিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করায় অভিনন্দন জানাই।
নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে তাদের সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামা ইসলাম ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে অভিনন্দন জানাই।
তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। জনমনে সৃষ্ট সংশয় কাটিয়ে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করে বলেন, দলের ঘোষিত ৩১ দফা ও নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে ঐকমত্য হওয়া জুলাই সনদ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। আমার বক্তব্য স্পষ্ট, যেকোনো মূল্যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে হবে। কোনো ধরনের অন্যায় বরদাশত করা হবে না।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশে নতুন সূর্যোদয় হয়েছে। বিএনপিকে নির্বাচনে বিজয়ী করার জন্য দেশের জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এ বিজয় গণতন্ত্রের, এ বিজয় বাংলাদেশের, এ বিজয় দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের। আজ থেকে আমরা স্বাধীন।
তিনি বলেন, আমি দেশের সব জনগণকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে আমরা দেশের গণতন্ত্রের পথ সুগম করেছি। ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান ও দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি।
তারেক রহমান বলেন, আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর কোনো অপশক্তি যাতে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে সেজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং থাকবো।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ বিএনপির সিনিয়র নেতা, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ, বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সঞ্চালনা করেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কারী ইসমাইল জবিউল্লাহ।
তারেক রহমান বলেন, সকল প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে আপনারা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছেন। ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর করে দেয়া সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি। আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সংসদ এবং সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেও আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলোই মূলত: গণতন্ত্রের বাতিঘর। সরকার এবং বিরোধী দল যে যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে অবশ্যই দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহবান জানাই, দেশ গঠনে আপনাদের চিন্তাভাবনাও আমাদের কাছে গুরুত্ত্বপূর্ণ। আমাদের পথ এবং মত ভিন্ন থাকতে পারে কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।
দেশের আগামীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনমনে সৃষ্ট সকল সংশয় কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত দেশে শান্তিপূর্ণভাবে একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। জনগণের প্রত্যাশিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য গণতন্ত্রের ইতিহাসে আপনাদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্মকর্তা, জনপ্রশাসন, সশস্ত্রবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্য এবং রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের আন্তরিকতা এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা ছাড়া অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হতোনা। আমি তাদেরও অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
তারেক রহমান বলেন, ৭১ এর স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ থেকে ২০২৪ সালে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ, এই দীর্ঘ সময়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, হতাহত হয়েছেন, যাদের রক্ত মাড়িয়ে, কষ্টের সিঁড়ি বেয়ে আজকের এই গণতান্ত্ৰিক বাংলাদেশ, সেই সকল বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। মহান আল্লাহর দরবারে তাদের মাগফিরাত কামনা করছি।
যারা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ দিয়েছেন, হতাহত হয়েছেন, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আপনাদের ভূমিকাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ রাখবে।