১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৫২

দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না: তারেক রহমান

সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় লাভের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল–এর গ্র্যান্ড হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

এসময় তারেক রহমান বলেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যাই হোক, কোনো অজুহাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না। ন্যায়পরায়ণতাই হবে আদর্শ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আমাদের সব প্রচেষ্টা বৃথা যেতে বাধ্য।

তিনি বলেন, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল, অন্য মত কিংবা ভিন্নমত প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের জন্যই আইন সমান। আইনের প্রয়োগ হবে বিধিবদ্ধ নিয়মে।

নিজ দলীয় নেতাকর্মীসহ সবার প্রতি অবস্থান স্পষ্ট করে তারেক রহমান বলেন, আমার বক্তব্য স্পষ্ট, যেকোনো মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান নির্বাচন পূর্ববর্তী ‘একে অপরের বিরুদ্ধে কিংবা একদল আরেক দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে ভোটের মাঠে হয়তো কোথাও কোথাও নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে’ বলে উল্লেখ করেন। এর পাশাপাশি এ ধরনের বিরোধ যেন প্রতিশোধ প্রতিহিংসায় রূপ না নেয় সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এবারের নির্বাচেনের বিজয়লাভের ব্যাপারে তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতাপ্রিয়, গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ আবারও বিএনপিকে বিজয়ী করেছে, আলহামদুলিল্লাহ।
এ বিজয় বাংলাদেশের, এ বিজয় গণতন্ত্রের, এই বিজয় গণতন্ত্রকামী জনগণের। আজ থেকে আমরা সবাই স্বাধীন।

তারেক রহমান আরও বলেন, সকল প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে আপনারা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছেন। আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সংসদ এবং সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। আর কোনো অপশক্তি যাতে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে
দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, এ জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণ অধিকার পরিষদসহ ৫১টি রাজনৈতিক দলকে অভিনন্দন জানান।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলোই মূলত: গণতন্ত্রের বাতিঘর। সরকার এবং বিরোধী দল যে যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে অবশ্যই দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।

এসময় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর চিন্তাভাবনা বিএনপির কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে তাদের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি  বলেন, আমাদের পথ এবং মত ভিন্ন থাকতে পারে কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।

সংবাদ সম্মেলনে সব সংশয় কাটিয়ে শান্তিপূর্ণ অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি।

দেশে গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, আসুন যেভাবে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ভূমিকা রেখেছিলাম একইভাবে এবার দুর্নীতি এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার মাধ্যমে আমরা বাংলাদশকে একটি নিরাপদ মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য যে যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখি।

সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথে ভিন্ন দল কিংবা ভিন্নমতের সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

এসময় বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ আহমেদ পাভেল ও চেয়াপারসনের উপদেষ্টা ইসমাঈল জবিউল্লাহর সঞ্চালনায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডা. এজেডম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জয়নুল আবেদিন, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দীন আহমেদ অসীম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।