নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান নাহিদের
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই সারাদেশে বিএনপি-সমর্থিত সন্ত্রাস, প্রতিহিংসা ও দখলদারিত্বের রাজনীতি শুরু হয়েছে—যা গভীরভাবে উদ্বেগজনক এবং গণতন্ত্রের জন্য সরাসরি হুমকি। ক্ষমতার উল্লাসে ভিন্ন মত ও প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির ওপর হামলা চালিয়ে তারা প্রমাণ করছে—তাদের লক্ষ্য গণতান্ত্রিক সহাবস্থান নয়, ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা। আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সামাজিত যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ ভেরিফায়েড আইডেতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
দেশের বিভিন্ন স্থানে এগারো দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা হয়েছে জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বহু মানুষ আহত হয়েছেন, প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন উচ্ছৃঙ্খলতা নয়; এটি সংগঠিত শক্তিপ্রদর্শন এবং রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েমের অপচেষ্টা। আমরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই—নির্বাচনের পর সন্ত্রাস চালিয়ে মাঠ দখলের রাজনীতি সফল হবে না। জনগণের ম্যান্ডেটকে ঢাল বানিয়ে যারা গণভয় তৈরি করছে, তারা ইতিহাসের ভুল পাশে দাঁড়াচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দমন করে নয়, ন্যায়সংগত প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই টিকে থাকে।
প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশাসনের প্রতি আমাদের সুস্পষ্ট দাবি—অবিলম্বে সকল সহিংসতা বন্ধ করতে হবে, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নীরবতা, গড়িমসি বা পক্ষপাত এই সংকটকে আরও গভীর করবে এবং রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
তিনি আরও বলেন, চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশ আর ভীত-সন্ত্রস্ত নয়। নতুন করে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব কায়েমের চেষ্টা হলে ছাত্র-জনতা ও সচেতন নাগরিক সমাজ গণতান্ত্রিক উপায়ে তার কঠোর জবাব দেবে। সহিংসতা বন্ধ হোক। দোষীদের গ্রেপ্তার করা হোক। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। গণতন্ত্র ভয়ের নয়—জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণের ওপরই দাঁড়াক।