১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:০৫

ভোট কারচুপির অভিযোগ তুললেন এলডিপি সভাপতি কর্নেল অলি

কর্নেল অলি  © ফাইল ফটো

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে কারচুপির অভিযোগ করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তায় এ অভিযোগ করেন তিনি। পরে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ওই ভিডিও বার্তা তিনি অভিযোগ করে বলেন, গতকাল ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়েছে। আপনারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিভিন্ন জায়গায় অংশগ্রহণ করেছেন। তবে আমরা লক্ষ্য করেছি, বিভিন্ন জায়গায় কারচুপি হয়েছে। বিশেষ করে তিনটি জায়গায় হাশিমপুর তরুণ সংঘ স্কুল, হাশিমপুর বড়পাড়া সরকারি প্রাইমারি স্কুল ও দোহাজারী আবদুর রহমান হাই স্কুলে সাড়ে ৪টার পরে অপরিচিত কয়েকশত লোক প্রবেশ করে। তারা জোরপূর্বক হয়তো ওইখানে যারা প্রিসাইডিং ও পোলিং ছিল তাদের সাথে পূর্বপরিকল্পিত ছিল এভাবে কাজ করার জন্য। তারা অনেকগুলো ব্যালট পেপার সেখানে ঢুকিয়ে দিয়েছে। 

কর্নেল অলি আরও বলেন, এ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যারাই ছিল আড়াই টার পর থেকে ৩টার পর থেকে আমাদের যারা নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রের বাহিরে তিউটিরত ছিল তাদেরকে পিটিয়ে বের করে দিয়েছে। প্রশাসনকে বারবার বলা সত্ত্বেও আমাদের যারা কাজ করছিল তাদের উপরে মারপিট করেছে। অন্যদিকে জসিম ৬-৭টা মাইক্রোবাস নিয়ে, মোটরসাইকেল নিয়ে ডেমো স্টেশন দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করছে এবং সন্ধ্যার আগে ও সন্ধ্যার পরে প্রায় ৩০-৪০টা মাইক্রোবাস নিয়ে ট্রাক নিয়ে মিছিল করে উপজেলা হেডকোয়ার্টারে এসেছে। এখানে আর্মি ক্যাম্প ছিল, পুলিশের ক্যাম্প ছিল, পুলিশের থানা ছিল ও প্রশাসন ছিল তাকে বারণ করে নাই। তারা উপজেলা হেডকোয়ার্টারে এসে তছনছ করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমার কর্মীদেরকে আমি অনেক কষ্ট করে সুশৃংখল রাখার চেষ্টা করেছি। এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং যারা এই নির্বাচনের দায়িত্বে ছিল তারা একতরফাভাবে কাজ করেছে। বিভিন্ন জায়গায় আমাদের এজেন্টদেরকে সাড়ে ৪টার পরে বের করে দিয়েছে। এ ছাড়াও ওমর ফারুকের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ভোট বাতিল বলে গণ্য করেছে। আমাদের এজেন্টরা যখন এটা চ্যালেঞ্জ করেছে তাদেরকে বাতিলগুলো কেন করা হলো এবং কিভাবে করা হলো এগুলো দেখানো হয় নাই। 

কর্নেল অলি বলেন, আমি আপনাদেরকে এটাই বলব, সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ওমর ফারুককে পরাজিত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আপনাদের অবগতির জন্য এটা জানাতে চাই, আপনারা যদি মনে করেন প্রফেসর ওমর ফারুক পরাজিত হয়েছে, ড. কর্নেল অলি আহমদ পরাজিত হয়েছে; আমরা পরাজিত হয় নাই। আল্লাহর মেহেরবানি, আমার নবীর দয়া মুক্তিযোদ্ধা কখনো পরাজিত হয় না, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কখনো পরাজিত হয় না। পরাজিত হয়েছে টাকা এবং আমার নির্বাচনি এলাকার কিছু লোক।

তিনি আরও বলেন, সকলকে অনুরোধ করব, অত্যন্ত সুশৃংখলভাবে আপনারা দিন কাটাবেন। কারো সাথে কেনো ঝগড়াঝাঁটি করার প্রয়োজন নাই। এখন কিছু উশৃঙ্খল ছেলেরা আমাদের কর্মীদের উপর আক্রমণ করছে প্রশাসন নীরব। অথচ প্রশাসনের উচিত দুই দিন এখানে বসে প্রত্যেকটি জায়গায় পেট্রোলিং করা এবং দেখা কোনখানে সমস্যা হচ্ছে কিনা। তারা এ ব্যাপারে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। 

কর্নেল অলি বলেন, ওমর ফারুকসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রার্থীরা যারা এক থেকে দেড় হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছে এটা সুপরিকল্পিতভাবে অত্যন্ত শুক্ষভাবে এ কাজটি করা হয়েছে। আমরা পরাজিত হই নাই, পরাজিত হয়েছে আমার নির্বাচনী এলাকার জনগণ। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, ১১ দলীয় জোট জিন্দাবাদ, এলডিপি জিন্দাবাদ।

পরিশেষে তিনি বলেন, আমি সারাজীবন মানুষের খেদমত করেছি। আমার এই খেদমত মরণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আমার ছেলে সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে। আমরা নির্বাচনে জিতলাম কিনা জিতলাম না এটাতে কিছু আসে যায় না। জনগণের সেবায় আমি এবং আমার পরিবার সদা সর্বদাই নিয়োজিত থাকব। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের সুন্দর জীবন এবং সাফল্য কামনা করি। সবাইকে বলব উশৃঙ্খলতা পরিহার করুন, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকুন।