১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:১৮

দুই জেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় আহত ১৩

সংঘর্ষ  © ফাইল ছবি

কিশোরগঞ্জ ও মেহেরপুরে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় অন্তত ১৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ শুক্রবার পৃথক ঘটনায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী–বাজিতপুর) আসনে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বেলা ১১টার দিকে সংঘর্ষ বাধে। বাজিতপুর উপজেলার হুমায়ুনপুর ইউনিয়নের হুমায়ুনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজনকে বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয় পান শেখ মজিবুর রহমান। তিনি আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘনিষ্ঠ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার ‘হাঁস’ প্রতীকের কাছে প্রায় ১৩ হাজার ১৫৪ ভোটে পরাজিত হন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।

বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম শহীদুল্লাহ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

অন্যদিকে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় নির্বাচনী বিরোধকে কেন্দ্র করে তিনজন জামায়াতকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সকালে জোড়পুকুরিয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে এ হামলার ঘটনা ঘটে। 

আহতরা হলেন উজ্জ্বল হোসেন (৩০), মাসুদ রানা (৪৫) ও জুয়েল রানা (২৮)। গুরুতর আহত উজ্জ্বলকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, অন্য দুজন গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, সকালে বাজারে অবস্থানকালে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। আহতদের অভিযোগ, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে মেহেরপুর-২ আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী নাজমুল হুদা-র পক্ষে কাজ করায় তাঁদের লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মেহেরপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী আমজাদ হোসেনকে প্রায় ৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে জয় পান নাজমুল হুদা। ফল ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।