০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:০০

আমাদের মূল লক্ষ্য দেশকে পুনর্গঠন করা: তারেক রহমান

রাজধানীর বনানী কামাল আতাতুর্ক মাঠে এক জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান  © সংগৃহীত

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আর দুই দিন পরে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের বহু প্রত্যাশিত সেই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যে নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের মানুষ বহু মানুষ গত ১৬ বছরে হত্যার শিকার হয়েছে, জুলাই আন্দোলনে আমরা দেখেছি, কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আসুন আমাদের বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে, দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আপনাদের সামনে বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল যে কর্মসূচি দিয়ে তা বাস্তবায়নে বিএনপিকে আপনারা সুযোগ দিন। ইনশাল্লাহ বিএনপি আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আগামী দিনে দেশ গঠন করবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করা।’

আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় নিজের আসন ঢাকা-১৭-এর বনানী কামাল আতাতুর্ক মাঠে এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার একটি কথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, প্রত্যেকটি জায়গায় একটি কথাই বলি… দেশ যেহেতু আমাদের, কেউ বাইরে থেকে এসে আমাদেরকে এই দেশ গঠন করে দিয়ে যাবে না। এই দেশ আমাদেরই গড়ে তুলতে করতে হবে। নিজের ঘর যেরকম নিজেকে সামাল দিয়ে রাখতে হয়, এই দেশকে আমাদেরই গড়ে তুলতে করতে হবে।  আমি ঢাকা-১৭ প্রার্থী হিসেবে আপনাদের সবার কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাই।’

বনানী মাঠে জনসভায় দাঁড়িয়ে ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী হিসেবে তারেক রহমান বলেন, ‘এই এলাকায় প্রার্থী ছিলেন খালেদা জিয়া। আমি এবার প্রার্থী। এই এলাকায় আমার বেড়ে ওঠা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে আমি এই এলাকাতেই বড় হয়েছি, আমার ভাই এই এলাকাতেই বড় হয়েছে, আমাদের পরিবার আমাদের সন্তানেরা এই এলাকাটি জন্মগ্রহণ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বেগম খালেদা জিয়া উনিও এই এলাকাতেই সারা জীবন কাটিয়েছেন এবং এই এলাকা থেকেই উনি বিদায় নিয়েছেন। আজকে এই এলাকার সাথে স্বাভাবিকভাবে আমার এবং আমার পরিবারের একটি সম্পর্ক গড়ে উঠেছে… একটি মানসিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, আরেকটি আধ্যাত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে এই এলাকার মানুষের সঙ্গে।’
 
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী করবে, কী পরিকল্পনা তা সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়। স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ করে বিএনপির মত একটি রাজনৈতিক দলের কাছে সারা বাংলাদেশের মানুষ শুধু ঢাকা শহরে নয় সারা বাংলাদেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, ‘আমরাও বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমরা চেষ্টা করেছি আমরা সেভাবে দলের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা গ্রহণ করে সেইভাবে কর্মসূচি তৈরি করেছি যাতে আগামী ১২ তারিখে বাংলাদেশের মানুষ ধানের শীষকে নির্বাচিত করলে ইনশাআল্লাহ আমাদের সরকার গঠনে করলে আমরা যাতে সমাজের দেশের প্রত্যেকটি মানুষকে বিভিন্ন বিষয় যাতে আমরা এড্রেস করতে পারব।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে, আমরা স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি, এখন আমাদেরকে দেশ গড়ার কাজে হাত দিতে হবে। সেই কাজ হচ্ছে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে হাত দিতে হবে।’
 
তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আছে। প্রায় ২০ কোটি মানুষের এই দেশ, এই দেশের যারা সন্তান আছে, আমাদের যুবক আছ, তরুণ আছে তাদের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এই দেশের ভবিষ্যৎ সন্তানদের জন্য আমাদের সুন্দরভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা করে তুলতে হবে।সমগ্র বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় যানজট  আছে, রাস্তা-ঘাট  সংস্কার করতে হবে। আমরা শুধু গত ১৫ বছরে দেখেছি মেগা প্রজেক্ট হয়েছে, মেগা মেগা দুর্নীতি হয়েছে… এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। সেজন্য আমরা জনগণের সমর্থন চাই।’

বনানীর পথসভা থেকে বিএনপির চেয়ারম্যানের গাড়িবহর ধানমন্ডির পথে রওনা হয়েছে। সেখানে ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম রবির নির্বাচনী এলাকায় কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে, এরপর পর্যায়ক্রমে ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের আসনে পীর জঙ্গি মাজার রোডে, ঢাকা-৯ আসনে হাবিবুর রশীদ হাবিবের আসনে বাসাবো তরুন সংঘ মাঠে, ঢাকা-৫ আসনে নবী উল্লাহ নবীর যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোডে, ঢাকা-৪ আসনে তানভীর আহমেদ রবিনের জুরাইন দয়াগঞ্জ রোডে, ঢাকা-৬ আসনে ইশরাক হোসেনের ধূপখোলা মাঠে  এবং ঢাকা-৭ আসনে হামিদুর রহমান হামিদের লালবাগ বালুর মাঠের পথসভায় বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।

সারাদেশে নির্বাচনে প্রচারণা শেষে করে গতকাল রবিবার ঢাকা মহানগরে প্রচারণা শুরু করেন তারেক রহমান। গতকাল তিনি ঢাকার ৭টি নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দেন।