০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২২

জামায়াতের ঐক্যের সরকারে তারেক রহমানের ‘না’, নির্বাচনে জয় নিয়ে যা বললেন রয়টার্সকে

তারেক রহমান  © সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনের মতো আসন পাবে বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান। তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার দেশে ফেরা হয়। শেখ হাসিনা ছিলেন তারেক রহমানের মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকলেও সম্প্রতি দলটির পুনরুত্থান ঘটেছে। উল্লেখ্য, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে বাংলাদেশ শাসন করেছে।

জামায়াত ইতোমধ্যে জানিয়েছে, দেশকে স্থিতিশীল করতে ঐক্য সরকার গঠনের লক্ষ্যে আবারও অংশীদারত্বে আগ্রহী তারা। তবে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করি? আর যদি এমনটা হয়, তাহলে বিরোধী দল কে হবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি না তারা কতটি আসন পাবে। তবে তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, আমি আশা করি তারা ভালো বিরোধী দল হবে।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের দাবি, দলটি ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করতে পারে। নির্বাচনে বিএনপি সরাসরি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জোটভুক্ত প্রার্থীরা।

যদিও নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা উল্লেখ করতে রাজি হননি তারেক রহমান, তবে তিনি বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী যে সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক আসন আমাদের থাকবে।’

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুসম্পর্ক
ঢাকার একটি আদালত গত বছর রায়ে বিক্ষোভ দমনে ভূমিকার জন্য শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তাকে আশ্রয় দেওয়ার নয়াদিল্লির সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে চীনের জন্য সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

নির্বাচনে জয়ী হলে ভারত থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সক্ষমতা রয়েছে, এমন অংশীদারদের প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সরকারে থাকি, তাহলে আমাদের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য আনতে হবে, যাতে নতুন চাকরি সৃষ্টি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন যাপন করতে পারে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘তাই বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে–ই আমার জনগণ ও দেশের জন্য জুতসই প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমরা বন্ধুত্ব রাখব, নির্দিষ্ট কোনো দেশের সঙ্গে নয়।’

শেখ হাসিনার সন্তানেরা বিদেশ থেকে ফিরে এসে রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন কি না, এ প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘যদি কাউকে মানুষ গ্রহণ করে, যদি মানুষ তাদের স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।’

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। তার পতনের আগে বা সেই সময়ের আশপাশে দলটির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা এবং তার পরিবারের সদস্যরা বিদেশে চলে গেছেন।


সূত্র: রয়টার্স