০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:২০

ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জকসুর

ইনকিলাব মঞ্চের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জকসু  © টিডিসি ফটো

পুলিশের হামলায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের আহত হওয়ার ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক আখ্যা দিয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক বিবৃতিতে জকসুর সহ সভাপতি (ভিপি) মোঃ রিয়াজুল ইসলাম ও সহ সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা একথা বলেন। 

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, শহীদ ওসমান হাদী হত্যার অর্ধ শতাধিক দিন পার হলেও এখনো তদন্ত রিপোর্ট পেশ করা হয়নি। ইনকিলাব মঞ্চ গতকাল থেকে জাতিসংঘের অধীনে শহীদ হাদী হত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে যমুনার সম্মুখে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। আজ বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ অতর্কিতভাবে ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃবৃন্দের উপর সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, শহীদ ওসমান হাদীর সহধর্মিণী ও ইনকিলাবের নেতৃবৃন্দের চাওয়া তো বেশি ছিল না। তারা হাদী হত্যার আন্তর্জাতিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য জাতিসংঘের নিকট সরকারের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রেরণ করতে চেয়েছিলেন। এই সামান্য চাওয়াটা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন ইন্টেরিম সরকার। বরং আজ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে আজ ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃবৃন্দের উপর পুলিশ ন্যাক্কারজনক ভাবে হামলা করেছেন। এই হামলায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের জিএস সালাউদ্দিন আম্মার, জকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য ও ইনকিলাব মঞ্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব শান্তা আক্তার, ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র বিষয়ক সম্পাদক এবং ইনকিলাব মঞ্চ ঢাবি শাখার সদস্য সচিব ফাতেমা তাসনীম জুমাসহ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। পুলিশের গুলিতে আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছে। 

এই হামলা ইন্টেরিম সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ছাত্র-জনতা চব্বিশের জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করলেও পুলিশ এখনো ফ্যাসিবাদের ভাষায় কথা বলছে। আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের পক্ষ থেকে ইন্টেরিম সরকারের জানাচ্ছি, অতিদ্রুত ইনকিলাব মঞ্চের দাবি মেনে নিয়ে শহীদ ওসমান হাদী হত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে হাদীর খুনীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশি হামলায় আহতদের উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃবৃন্দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও হামলাকারী পুলিশদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।