জনগণকে আয়-ব্যয়ের হিসাব দেবেন এমপি-মন্ত্রী, সরকার দেবে ‘আমার টাকা আমার হিসাব’ অ্যাপে
জনগণের কাছে এমপি ও মন্ত্রীদের আয়-ব্যয়ের হিসাব উন্মুক্ত করা এবং সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘আমার টাকা আমার হিসাব’ নামে একটি অ্যাপ চালুর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা রাষ্ট্রীয় আয়ের উৎস ও ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলটির ৪১ দফা জনতার ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠান শুরু হয়।
ইশতেহার ঘোষণার শুরুতে ‘জনতার ইশতেহার’ শীর্ষক ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন করা হয়। এরপর স্বাগত বক্তব্য দিতে মঞ্চে আসেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। ইশতেহারে ইসলামি আদর্শের আলোকে রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
দলটি জানায়, ক্ষমতায় গেলে জনপ্রতিনিধি ও সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর জননজরদারি বাড়াতে ডিজিটাল প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, যার অংশ হিসেবেই ‘আমার টাকা আমার হিসাব’ অ্যাপ চালু করা হবে।
নিম্নে দলটির ‘আমার টাকা আমার হিসাব’ অ্যাপ নিয়ে প্রস্তাবনা তুলে ধরা হলো:
১. দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। যেকোনো স্তরে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পদ্ধতিগত সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে।
২. প্রশাসনের সকল স্তরে সেবাসমূহ ডিজিটালাইজ করে সরাসরি যোগাযোগ ও তদবির বন্ধ করা হবে।
৩. শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষা, নৈতিক নেতৃত্ব এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা সংবলিত পাঠ্যক্রম যুক্ত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সৎ ও মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
৪. সরকারি দপ্তরের সর্বত্র সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে, যাতে সকল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।
৫ দুর্নীতির জন্য শাস্তি নিশ্চিতে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে শাস্তি কার্যকর করা হবে।
৬. দুর্নীতিবাজদের অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
৭. দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও সিভিল সোসাইটিসমূহের ভূমিকা আরও সক্রিয় করতে আইনি ও নীতিগত সহায়তা প্রদান করা হবে।
৮. মন্ত্রী ও এমপিসহ সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বার্ষিক সম্পদ বিবরণী জনসাধারণের সামনে পেশ করতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
৯. দুর্নীতিরোধে সকল পর্যায়ের কাঠামোগত পর্যালোচনা করে দুর্নীতি সুযোগগুলোকে প্রতিরোধ করা হবে। বড় বড় দুর্নীতির উৎসসমূহ পর্যালোচনা করে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৯. ‘আমার টাকা আমার হিসাব’ অ্যাপ চালুর মাধ্যমে সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসেব প্রদান করা হবে।