শিক্ষার্থীদের প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা ঋণ দেবে জামায়াত, যারা পাবেন
স্নাতক পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দলটি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এমন ঘোষণা দিয়েছে।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, স্নাতক পড়ুয়া এক লাখ মেধাবী শিক্ষার্থীকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ঋণ দেওয়া হবে। এ ঋণ হবে সুদ মুক্ত। পাঁচ বছর পর্যন্ত এ ঋণ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে সব স্তরের ভর্তি পরীক্ষায় আবেদন ফি বাদ দেওয়া হবে। এছাড়া দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে ৪টি ধারায় বিভক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে জামায়াতের। এগুলো হলো: ইসলাম শিক্ষা, বিজ্ঞান শিক্ষা, সাধারণ শিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষা। নারী শিক্ষার্থীরা স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়তে পারবেন বলেও ইশতেহারে বলা হয়েছে।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকার পরিচালনায় জামায়াতের মোট ২৬টি অগ্রাধিকার এই ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে। ইশতেহারের প্রথম ভাগে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন, শক্তিশালী ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এতে শাসনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার, রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, কার্যকর জাতীয় সংসদ, নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার, জবাবদিহিতামূলক জনপ্রশাসন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ এবং আইন ও বিচারব্যবস্থার উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।
ইশতেহারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগে আত্মনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বাণিজ্য, শিল্প, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয় ইশতেহারে।
এছাড়া কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং যুবকদের নেতৃত্বে প্রযুক্তি বিপ্লবের রূপরেখা ইশতেহারের বিভিন্ন অংশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নারী ও শিশু নিরাপত্তা, সমাজকল্যাণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
জামায়াত জানায়, ‘জনতার ইশতেহার’ তৈরিতে অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে পাওয়া ৩৭ লাখের বেশি জনমতের প্রতিফলন রাখা হয়েছে। দলটির দাবি, জনগণের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রয়োজনকে সামনে রেখেই এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে।