০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৮

'সন্তান গর্ভে আসার পর থেকে দুই থেকে আড়াই বছর মায়েদের কর্মঘণ্টা পাঁচ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হবে'

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান  © টিডিসি ফটো

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘সন্তান গর্ভে আসার পর থেকে জন্ম ও লালন-পালনের জন্য প্রথম দুই থেকে আড়াই বছর মায়েদের কর্মঘণ্টা পাঁচ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হবে। বাকি তিন ঘণ্টা সন্তানের লালন-পালনের জন্য বরাদ্দ থাকবে এবং সেই সময়ের বেতন সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। প্রথমে সরকারি খাতে এবং পরে বেসরকারি খাতেও এ ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।’

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গাজীপুরের রাজবাড়ী মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
 
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে মনগড়া উন্নয়ন নয়; এমন উন্নয়ন হবে যার সুফল ভোগ করবে আপামর জনগণ। আমরা কোনো জাত-পাত, ধর্ম-বর্ণ কিংবা শ্রেণিভিত্তিক বৈষম্য করব না। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়াই আমাদের লক্ষ্য।’
 
তিনি বলেন, 'জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী ও পুরুষের মধ্যকার বেতন বৈষম্য সম্পূর্ণভাবে দূর করা হবে। একই কাজের জন্য নারী-পুরুষের ভিন্ন বেতন এই দেশে আর থাকবে না। পাশাপাশি মায়েদের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং তাদের জন্য সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।'

মায়েদের সম্মান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা মায়েদের গায়ে হাত তোলে, মায়ের সন্তানেরা তাদের ক্ষমা করবে না। মাকে সম্মান করলে পুরো জাতি তোমাকে সম্মান করবে। জীবন দেবো, কিন্তু মায়ের সম্মান নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেবো না।’
 
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘গাজীপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হলেও এখানে শ্রমিকদের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবায় ঘাটতি রয়েছে। ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলে শিল্পাঞ্চলকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘ঘনবসতিপূর্ণ এই শিল্পাঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও এখানকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, গ্যাস সরবরাহ ও টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যাপক সমস্যা রয়েছে। অথচ জাতীয় জিডিপিতে গাজীপুরের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষক, শ্রমিক ও শিল্পোদ্যোক্তাসহ প্রত্যেকের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে।’
 
১২ ফেব্রুয়ারি ইনসাফের পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশ সেবার সুযোগ পেলে গাজীপুরের প্রতি কোনো বেইনসাফি করা হবে না।’
 
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘৫ তারিখের পরই দেখা যাচ্ছে, কিছু মহল অতীতের মতো আবারও মজলুমদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। তারা ক্ষমতায় এলে কী করবে?'