৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৯

বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা, এক জেলায় বিএনপির-ছাত্রদলের ৩০ জন বহিষ্কার

লোগো  © টিডিসি ফটো

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ১৭ জন এবং আশাশুনি উপজেলা বিএনপির ৫ জন নেতাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই অভিযোগে এর আগে কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলা ছাত্রদলের ৮ জন নেতাকেও বহিষ্কার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু স্বাক্ষরিত পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়। 

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সাতক্ষীরা-০৩ আসনে ধানের শীষ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব কাজী আলাউদ্দীনর সুপারিশ এবং সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশর সিদ্ধান্তক্রমে এ বহিষ্কার কার্যকর করা হয়েছে।

কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন-নলতা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আজিজুর রহমান পাড়, কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম, রতনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শিহাবউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কাদের, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বাবলু, নলতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কিসমাতুল বারী, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াকুব আলী খান, কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি আব্দুল আজিজ গাইন, নলতা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিলন কুমার সরকার, মৌতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল কবীর, মথুরেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান আঙ্গুর, ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি জাকির হোসেন, তারালী ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি মোনাজাত সানা, বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি মো. সফিরউদ্দীন সবুজ, কোষাধ্যক্ষ নুর ইসলাম মিলন, কুশুলিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য এস এম হাফিজুর রহমান বাবু এবং কুশুলিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপি সদস্য শেখ রবিউল ইসলাম।

এছাড়া আশাশুনি উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মো. খায়রুল আহসান, সাবেক সদস্য জুলফিকার আলী জুলি, সাবেক সদস্য মিজানুর রহমান, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং বুধহাটা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ খোরশেদ আলমকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলা ছাত্রদলের ৮ নেতাকে বহিষ্কার করে ছাত্রদল। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হয়।

বহিষ্কৃতরা হলেন, কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু ফরহাদ সাদ্দাম, যুগ্ম আহ্বায়ক বাপ্পী হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, অলিউর রহমান এবং সদস্য সচিব শেখ পারভেজ ইসলাম। এছাড়াও আশাশুনি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো ইয়াসির আরাফাত পলাশ, যুগ্ম আহ্বায়ক মিরাজ হোসেন ও সদস্য সচিব মো সবুজ হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে তাদেরকে ছাত্রদলের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বহিষ্কৃত এসব নেতা-কর্মী দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ডা. শহিদুল আলমের ‘ফুটবল’ প্রতীকের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছিলেন।