আমরা শান্তি চাই, ঝগড়া চাই না: তারেক রহমান
আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, কারণ শান্তি থাকলে আমি যে কথা বললাম, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবো। আমরা ঝগড়া-বিবাদের মধ্যে যেতে চাই না। আমি আজ এখানে দাঁড়িয়ে কারো সমালোচনা করছি না। কারণ আমি যদি সমালোচনা করি, আপনাদের কোনে লাভ হবে, আপনাদের পেট ভরবে।আপনাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, আপনাদের কৃষি ঋণ মওকুফ হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠে এক নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যন এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
তারেক রহমান বলেন, কিন্তু কোথাও যদি কোনো অনাকাংখিত ঘটনা ঘটে অন্তবর্তীকালীন যে সরকার আছে তাদের উচিত সুষ্ঠু তদন্ত করা। সেই সুষ্ঠু তদন্তে যদি বিএনপির ভূমিকা থাকে আমরা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করব।
তারেক বলেন, সঠিক তদন্ত হলে দেশের আইন অনুযায়ী বিচার হতে হবে। আমরা মুসলাম, বৌদ্ধ, হিন্দু, খ্রীস্টান সকলে এদেশে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই। একাত্তর সালে যখন আমরা দেখিনি কে কোনো ধর্মে, ২৪ সালের ৫ আগস্টেও আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মে। তাই আজ দেশ গড়ার সময় এসেছে, স্বাধীনতাকে রক্ষা করার সময় এসেছে। আজ আমরা ধর্ম দেখতে চাই না, আমরা দেখব মানুষ, আমরা দেখবো বাংলাদেশী। যারা গণতন্ত্রের বিশ্বাসী আমরা তাদের সাথে আছি।
রাজশাহীর নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ এবং পদ্মা নদীর ওপরে ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, রাজশাহী বললেই বুঝায় পদ্মা নদী…এখন দূঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে পদ্মাই বলেন, তিস্তাই বলেন, ব্রক্ষপুত্রই বলেন, যে নদীই বলেন, পানি আছে কোনো? কোনো পানি নাই, পদ্মা নদীর সাথে যে খালগুলো আছে সেখানেও পানি নাই। আমাদের নদীতে পানি দরকার। এই এলাকার খালগুলো আমরা খনন করতে চাই। ধানের শীষ ইনশাল্লাহ বিজয়ী হলে আমরা পদ্মা ব্যারেজ করতে চাই। ইনশাল্লাহ আমরা পদ্মা ব্যারেজের কাজে হাত দেবো।
তিনি বলেন, যেহেতু রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষি কাজের সাথে জড়িত, যদিও সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ কৃষি পেশার সাথে জড়িত, দেশের বৃহৎ একটি অংশ কৃষি পেশার সাথে জড়িত। কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষভালো থাকবে, কৃষি যদি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয় তাহলে দেশের মানুষ সহজেই কৃষি উৎপাদিত পণ্য সামগ্রি সেগুলো তারা ক্রয় করতে পারবে। এজন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ১০ হাজার টাকা পর্যান্ত কৃষি ঋণ আছে ইনশাল্লাহ আগামী ১২ তারিখে ধানের শীষ বিজয় হয়ে সরকার গঠন করলে আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণসুদসহ মওকুফ করব ইনশাল্লাহ।
একই সঙ্গে কৃষি কার্ড চালুর মাধ্যমে কীটনাশক ঔষধ, সার, বীজসহ বিভিন্ন উপকরণও কৃষকদের সহায়তা করা হবে বলে জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।
উত্তরাঞ্চলে বন্ধ থাকা বরেন্দ্র প্রকল্প চালু, রাজশাহীর আইটি পার্ক সচল,, রাজশাহী বিভাগে একটি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপন, একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ, আম সংরক্ষনে হিমাঘার নির্মাণ, এবং কৃষি সংক্রান্ত শিল্প স্থাপনে উৎসাহী উদ্যোক্তাদের বিশেষ সহায়তা প্রদান কথা হবে জানান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, কেনো এসব কাজ করছি? এই পরিকল্পনার কথাগুলো আপনাদেরকে এজন্য বললাম, এই কাজগুলোর কথা এই জন্য বললাম বিগত ১৬/১৭ বছর এই দেশের সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকার যেমন কেড়ে নেয়া হয়েছিলো, এদেশের মানুষের কথা বলার অধিকার যেমন কেড়ে নেয়া হয়েছিলো ঠিক দেশের মানুষের জন্য তারা (বিগত সরকার) কোনো কাজ করে নাই।
তারেক বলেন, আমরা দেখেছি, কিভাবে তারা মেগা মেগা প্রকল্প করেছে এবং এই মেগা প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ছিলো মেগা দুর্নীতি। এলাকার মানুষের জন্য রাস্ত-ঘাট নির্মাণ, কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো, মা-বোনদের পাশে দাঁড়ানো, এলাকায় হাসপাতাল, এলাকায় স্কুল কলেজ ঠিক করা, হাসপাতাল ঠিক করা.. এসব কোনো কাজ বিগত সরকারের সময়ে হয়নি। কাজেই ২৪ সালের ৫ আগস্ট যে পরিবর্তন হয়েছে এর মাধ্যমে যেন জনগনের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়।সেজন্য ১২ তারিখে নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সমাবেশে তারেক রহমান রাজশাহী, নাটোর ও চাপাই নবাবগঞ্জের ১৩টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের জন্য ভোট চান। প্রার্থীরা হলেন, শাহজাহান মিয়া, আমিনুল হক, হারুনুর রশীদ, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল শরীফ উদ্দিন, মিজানুর রহমান মিনু, শফিকুল ইসলাম মিলন, ডিএম জিয়াউর রহমান, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, আবু সাঈদ চাঁন, ফারজানা শারিমিন পুতুল, রুহুল কুদ্দন তালুকদার দুলুম, আনোয়ার হোসেন আনু, আব্দুল আজিজ উপস্থিত ছিলেন।
‘আগামীতে দেশ কোনো দিকে যাবে?’
তারেক রহমান বলেন, ১২ তারিখে বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আগামী দিন আমরা দেশকে কোন দিকে পরিচালিত করব। দেশকে আমরা গণতন্ত্রের দিকে পরিচালিত করব নাকি দেশ অন্য কোনো দিকে চলে যাবে.. এই বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের দিকে যদি আমরা দেশকে ধাবিত করি, গণতন্ত্রের পথে যদি দেশকে আমরা পরিচালিত করি তাহলে আজকে আমরা যেসব পরিকল্পনার কথা বললাম, আপনাদের যে দাবিগুলোর কথা তুলে ধরলাম, মানুষের উপকার হয় সেই কাজগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
তারেক বলেন, আমরা যদি গণতন্ত্রকে ধরে রাখতে না পারি তাহলে মেগা প্রজেক্ট হবে, জনগণের কোনো প্রজেক্ট হবে না। জনগণের প্রজেক্ট যদি বাস্তবায়ন করতে হয় তাহলে অবশ্যই গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করতে হবে, গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করতে হবে। তাহলেই জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। আসুন আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।
তারেক বলেন, অবস্থার পরিবর্তনের অর্থ যেকোনো মূল্যে গণতন্ত্রকে সুসংহত করা, গণতন্ত্রের ঝান্ডাকে উপরে তুলে ধরা। কোনোভাবে যেন জনগণের ঝান্ডা নেমে যেতে না পারে এ ব্যাপারে সকলকে দৃষ্টি রাখতে হবে।
‘ধানের শীষ জয় হলে ১৩ তারিখ থেক জনগনের জয়যাত্রা শুরু হবে’
তারেক রহমান বলেন, ১২ তারিখে যদি ধানের শীষ জয়যুক্ত হলে পরে ইনশাল্লাহ ১৩ তারিখ থেকে শুরু হবে জনগণের জয়যাত্রা। সেজন্য আমি সব সময় বলি, আমরা কবর কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
জেলা সভাপতি মামুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান লিটনের সঞ্চালনায়সমাবেশে বিএনপির নেতা শাহীন শওকত, দেবাশীষ রায় মধু, সাইফুল ইসলাম মার্শাল, বিশ্বনাথ সরকারসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। মঞ্চে তারেক রহমানের সাথে তার স্ত্রী জোবাইদা রহমানও ছিলেন।