কাকে ভোট দেওয়া উচিত, জানালেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাকে ভোট দেওয়া উচিত এ প্রসঙ্গে পরামর্শ দিয়েছেন প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে তিনি এমন পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, ইসলাম একটি সর্বকালীন পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন, আন্তর্জাতিক জীবন, অর্থব্যবস্থা, সমরব্যবস্থা, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র ব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা নীতি, আইনকানুনের যাবতীয় শাখা-প্রশাখাসহ মানবজীবনের যাবতীয় সমস্যার বিস্তারিত দিকনির্দেশনা রয়েছে ইসলামে। ইসলাম মানুষকে যেমনিভাবে আখিরাতের সব বিষয়ের দিকনির্দেশনা দিয়েছে, তেমনিভাবে দুনিয়ার সব বিষয়েও দিয়েছে ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে ভোটের গুরুত্ব অপরিসীম।
পরামর্শ দিয়ে আহমাদুল্লাহ বলেন, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাস, ঘুষখোর, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারী, মিথ্যাবাদী, ধর্মের প্রতি উদাসীন, খোদাদ্রোহী ব্যক্তিদের প্রার্থী হওয়া বা ক্ষমতায় বসার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। নির্বাচনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ইসলাম সর্বদা ব্যক্তির সততা, যোগ্যতা, খোদাভীতি, ইমান-আমল, জ্ঞান ও চারিত্রিক গুণাবলিকে প্রাধান্য দিয়েছে। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হওয়া যেমন জরুরি, প্রার্থী বা নির্বাচিত ব্যক্তিও তেমন সৎ-যোগ্য, জ্ঞানী-গুণী, চরিত্রবান, খোদাভীরু, আমানতদার, ন্যায়পরায়ণ, দেশপ্রেমিক, মানবদরদি ও দায়িত্বানুভূতিসম্পন্ন হওয়া তারচেয়েও বেশি প্রয়োজন।
এ প্রেক্ষাপটে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার পাশাপাশি নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে জানিয়ে তিনি বলেন, অনেকেই জানতে চাচ্ছেন, জাতীয় নির্বাচনে কী দেখে কাকে ভোট দেওয়া উচিত। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কাকে ভোট দিলে সৎ এবং যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া হবে, এটা আপনার বিবেককে জিজ্ঞাসা করবেন। আপনি যদি সঠিকটা উদ্ধার করার চেষ্টা করেন, কিন্তু এরপর দেখলেন যে, না আপনি আসলে যেটাকে সঠিক মনে করেছেন সেটা সঠিক হয় নাই, লোকটা রাইট পার্সন না- এ জন্য আল্লাহর কাছে আপনার কোনো দায় থাকবে না। তবে চেষ্টা করতে হবে, যে কয়জন আছে এর মাঝে সবচেয়ে ভালো সৎ-যোগ্য মানুষ কে। সে জিতবে কী জিতবে না এটা আপনার দেখার বিষয় না। আমাদের দেশের বেশিভাগ মানুষ এই জায়গাটায় এসে ভুল করে। মনে করে যে, তাকে ভোট দিয়ে লাভটা কী! ভোট নষ্ট হবে।
ভোট নষ্ট হয় না উল্লেখ করে আহমাদুল্লাহ বলেন, একটা ভালো মানুষ যদি অল্প কয়টা ভোটও পায়, তাহলে সে এটার ওপর ভিত্তি করে সামনে আরও কয়টা পাবে,তারপর আবার আরও কয়েকটা পাবে। কিন্তু আপনি যদি ভোট দেওয়ার রাস্তাটা বন্ধ করেন অথবা সে ভোট কম পাবে এটা ভেবে আরেকজনকে ভোট দেন, তাহলে এই চান্সে খারাপ মানুষগুলো তাদের খারাপের রাজত্ব আরও বেশি করে করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, কেউ জিতুক সেটা আপনি চাইতে পারেন, কিন্তু জেতানো আপনার দায়িত্ব না। আল্লাহর কাছে দায়িত্ব হলো, আপনার কাছে মত চাওয়া হয়েছে, এখন আপনি মত দেওয়ার সময় সবচেয়ে ভালো লোকটাকে মত দেবেন। এটা হলো আপনার কাজ।
সবশেষে ইসলামী এই স্কলার বলেন, যাকে ভোট দিলে আপনার ইমান-আমল, ইসলামের স্বার্থ এবং মুসলিম উম্মাহর স্বার্থ সংরক্ষিত হবে বলে আপনি বিশ্বাস করেন, যাকে ভোট দিলে দেশের সার্বিক উন্নতি হবে, চুরি-ডাকাতি হবে না- তাকে ভোট দেবেন। এ ক্ষেত্রে সামান্য টাকা-পয়সার জন্য লোভের ফাঁদে পড়বেন না। কারণ, ভোট আল্লাহর কাছে অনেক বড় একটা জবাবদিহিতার জায়গা। ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ করেছেন, আমানত যথাস্থানে পৌঁছাও।