হাঁটলেই পায়ে ব্যথা, দৌড়ালেই গোড়ালিতে টান? স্বস্তি দিতে পারে এই তিন যোগাসন
হাঁটতে গেলেই পায়ে ব্যথা, দৌড়ানোর সময় গোড়ালিতে টান ধরা বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর পায়ের যন্ত্রণা এমন সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। সারাদিন ঘরে-বাইরে নানা কাজ, পেশাগত কারণে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা, হিল জুতা পরার অভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে পায়ের পেশি ও গোড়ালিতে ব্যথা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু যোগাসন নিয়মিত অনুশীলন করলে এই ধরনের অস্বস্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব। পায়ের ব্যথা শুধু বয়স্কদের নয়, বর্তমানে কম বয়সীরাও এই সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। দীর্ঘ সময় একভাবে চেয়ারে বসে থাকা, হাঁটাচলার অভাব এবং সারাদিন পা ঝুলিয়ে কাজ করার কারণে অনেকেরই হাঁটতে গেলেই পায়ের পাতায় টনটনে ব্যথা অনুভূত হয়।
আবার দেখা যায়, রাতে বিশ্রামের সময় ব্যথা আরও বেড়ে যায়, গোড়ালি ফুলে ওঠে। এমনকি সকালে ঘুম থেকে উঠে মাটিতে পা রাখলেও তীব্র যন্ত্রণা অনুভূত হতে পারে। সিঁড়ি থেকে ওঠার সময়ও অনেকের পায়ে অসাড় ভাব দেখা দেয়।
পায়ের ব্যথা কমতে পারে যোগাসনে। তবে নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি অভ্যাস করতে হবে। এ ধরনের সমস্যা কমাতে নিয়মিত কয়েকটি যোগাসন অনুশীলনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।
অধোমুখ শ্বানাসন (ডাউনওয়ার্ড-ফেসিং ডগ পোজ)
এ আসনে হাত, পা, পেট, কোমর ও নিতম্বের পেশির ব্যায়াম হয়। শুরুতে হাত ও হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে হামাগুড়ি দেওয়ার মতো অবস্থানে বসতে হবে। এরপর কোমর ও পিঠ ওপরে তুলে শরীরকে ইংরেজি ‘ভি’ অক্ষরের মতো আকৃতি দিতে হবে। হাতের তালু ও পায়ের পাতা মাটিতে থাকবে এবং মাথা নিচের দিকে ঝুঁকিয়ে গভীর শ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে। ২০ সেকেন্ড এভাবে থেকে ধীরে ধীরে আগের অবস্থানে ফিরে আসতে হবে।
তাড়াসন
এ আসনের জন্য প্রথমে ম্যাটের ওপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দুই পায়ের মধ্যে প্রায় দুই ইঞ্চি দূরত্ব রাখতে হবে। এরপর দুই হাত মাথার পেছনে নিয়ে আঙুলগুলো জোড়া লাগাতে হবে। শ্বাস নিতে নিতে হাত মাথার ওপর প্রসারিত করে গোড়ালি মাটি থেকে তুলতে হবে, যাতে শরীরের ভর থাকে পায়ের আঙুলের ওপর। এ সময় পুরো শরীরে টান অনুভূত হবে। ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড এই অবস্থানে থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে হবে।
আরও পড়ুন : নেই শিক্ষক, সংকট কম্পিউটারের—এক যুগেও পূরণ হয়নি আইসিটি শিক্ষার ঘাটতি
সুপ্ত বীরাসন
প্রথমে ম্যাটের ওপর দুই পা সামনে ছড়িয়ে বসতে হবে। এরপর একে একে দুই হাঁটু ভাঁজ করে গোড়ালি নিতম্বের নিচে রাখতে হবে। মেরুদণ্ড সোজা রেখে ধীরে ধীরে শরীর পেছনের দিকে হেলাতে হবে এবং দুই হাত শরীরের দুই পাশে রাখতে হবে। স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বজায় রেখে প্রায় ২০ সেকেন্ড এই ভঙ্গিতে থাকার পর আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসতে হবে।
তবে পায়ে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র ব্যথা, গোড়ালিতে অতিরিক্ত ফোলা, আঘাতজনিত সমস্যা বা বাতের জটিলতা থাকলে শুধু যোগাসনের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে ব্যক্তিভেদে ব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন রকমের হতে পারে। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম করলে উপকার পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।