২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৭

ভালো নয়, বরং খারাপ হওয়ার কারণেই বক্স অফিসে হিট অ্যানিমেটেড সিনেমা নিউ লাই

অ্যানিমেটেড সিনেমা নিউ লাই  © টিডিসি সম্পাদিত

একটি সিনেমা ভালো হওয়ার কারণে নয়, বরং ভীষণ খারাপ হওয়ার কারণেই দর্শকদের মধ্যে এমন আগ্রহ তৈরি করতে পারে এমন ঘটনা বিরল। চিনে ঠিক এমনই নজির তৈরি করেছে অ্যানিমেটেড সিনেমা নিউ লাই। সিনেমাটির দুর্বল অ্যানিমেশন, অদ্ভুতদর্শন গরুর চরিত্র এবং দুর্বল গল্প নিয়ে দর্শকদের সমালোচনা এখন উল্টো ছবিটির প্রচারের বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। ফলে প্রথম দিকে প্রায় দর্শকশূন্য থাকা সিনেমাটিই এখন চিনের বক্স অফিসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

চীনা শব্দ নিউ লাই এর অর্থ গরু আসছে। সিনেমাটির মূল চরিত্রও গরু। একটি গরুর শৈশব থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে যোদ্ধা হয়ে ওঠার গল্প নিয়েই তৈরি হয়েছে অ্যানিমেশনটি। তবে চরিত্রগুলোর অদ্ভুত চেহারা এবং সিনেমার কারিগরি দুর্বলতাই এখন দর্শকদের আগ্রহের অন্যতম কারণ।

চিনের অ্যানিমেশন জগতে জাপানি অ্যানিমেশন ও সিরিজের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার চেষ্টা নতুন নয়। তরুণদের মধ্যে অ্যানিমেটেড সিনেমার জনপ্রিয়তা বাড়ার মধ্যেই নিউ লাই হাজির হয়েছে একেবারেই ভিন্ন ধরনের নির্মাণ নিয়ে।

সিনেমাটি তৈরি করেছেন চিনের তরুণ সিন ইউমেং ও তার মা সুন লিফাং। দুজনেরই পরিচালক হিসেবে অভিষেক হয়েছে এই সিনেমার মাধ্যমে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে মা-ছেলে মিলে সিনেমাটির কাজ করেছেন। এ কাজে তাদের সহযোগিতা করেছে চিনের একটি পরিচালনা সংস্থা।

সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হলো সিনেমাটির নির্মাণ ব্যয়। ভারতীয় মুদ্রায় মাত্র প্রায় ১৬ হাজার টাকা খরচ করে নিউ লাই তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত ৫ আগস্ট চিনের ২৪৫টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় সিনেমাটি। শুরুতে দর্শকদের তেমন আগ্রহ ছিল না। গরুর জীবন ও তার যোদ্ধা হয়ে ওঠার গল্প দেখতে প্রেক্ষাগৃহে খুব একটা মানুষ আসছিলেন না। ফলে মুক্তির প্রথম কয়েক দিন সিনেমাটির আয়ও ছিল অত্যন্ত কম।

কিন্তু ১৪ আগস্টের পর পরিস্থিতি বদলে যেতে শুরু করে। যারা সিনেমাটি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে গিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাটির দুর্বল অ্যানিমেশন, অদ্ভুত চরিত্র এবং দুর্বল গল্প নিয়ে সমালোচনা করেন। আর সেই সমালোচনাই শেষ পর্যন্ত সিনেমাটির জন্য হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় প্রচারণা।

দর্শকদের মধ্যে তখন নতুন কৌতূহল তৈরি হয় একটি সিনেমা আসলে কতটা খারাপ হতে পারে? সেই কৌতূহল থেকেই অনেকে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে নিউ লাই দেখতে শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাটির বিভিন্ন ক্লিপও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সিনেমাটিকে ঘিরে তৈরি হয় এক ধরনের মিম ও হাস্যরসের সংস্কৃতি।

বক্স অফিসের হিসাবেও তার প্রভাব দেখা যায়। মুক্তির প্রথম ১০ দিনে নিউ লাই মাত্র প্রায় ১০ হাজার ইউয়ান আয় করে। সে সময় প্রতিদিন সিনেমাটির আয় ছিল প্রায় ২০০ ইউয়ানের মতো। কিন্তু ১৪ আগস্টের পর আয় দ্রুত বাড়তে শুরু করে। ১৫ আগস্ট এক দিনেই সিনেমাটি আয় করে প্রায় ৭ লাখ ৭১ হাজার ইউয়ান।

আরও দেখুন: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএড পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ

এরপর আরও বাড়তে থাকে দর্শক আগ্রহ। ১৮ আগস্টের মধ্যে সিনেমাটির মোট বক্স অফিস আয় ২৩ লাখ ইউয়ান ছাড়িয়ে যায়। এমনকি চিনের বক্স অফিসে এটি স্পাইডারম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে কে পেছনে ফেলে চতুর্থ অবস্থানে উঠে আসে।

এখন সিনেমাটি জনপ্রিয় নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলানের ওডিসিকেও টেক্কা দেওয়ার পথে রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে। অর্থাৎ গ্রিক মহাকাব্যভিত্তিক বড় বাজেটের সিনেমার পাশাপাশি দর্শকদের একটি অংশ এখন মাত্র কয়েক হাজার টাকা ব্যয়ে তৈরি অদ্ভুতদর্শন গরুর গল্প দেখতেও ভিড় করছেন।

চিনের জনপ্রিয় রিভিউ প্ল্যাটফর্ম ডৌবানে ইতোমধ্যে নিউ লাই নিয়ে প্রায় ৬৫০টি সমালোচনা জমা পড়েছে। তবে নেতিবাচক সমালোচনাই যেন সিনেমাটির জনপ্রিয়তার মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। তরুণ দর্শকদের একটি অংশ সিনেমাটিকে নতুন ধরনের হাসির খোরাক হিসেবেও দেখছেন।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর চিনের বাইরে সিঙ্গাপুরে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে নিউ লাইয়ের। সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত বক্স অফিসে কতদূর যেতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে এত কম বাজেটে তৈরি একটি সিনেমা শুধু খারাপ হওয়ার কারণে দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে টেনে এনে যে আলোড়ন তৈরি করেছে, সেটি ইতোমধ্যে অ্যানিমেশন জগতে বেশ ব্যতিক্রমী নজির হয়ে উঠেছে।