ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ছাত্রাবাসে মা বিড়াল ও চার ছানা, যত্নে নৈশ প্রহরী
ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজের শেখ জামাল ছাত্রাবাস প্রায় শূন্য। কক্ষগুলো নির্জন, ডাইনিং হল বন্ধ, নেই শিক্ষার্থীদের চেনা কোলাহল। তবে এই নীরব পরিবেশেই দেখা মিলেছে এক ছোট্ট মানবিক গল্পের।
জানা যায় সপ্তাহখানেক আগে টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজের শেখ জামাল ছাত্রাবাসের বনলতা সেন কক্ষে আশ্রয় নেওয়া একটি পথবিড়াল সম্প্রতি চারটি ছানা প্রসব করেছে। হল খোলা থাকাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরাই বিড়াল ও তার ছানাদের জন্য খাবার ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতেন। কিন্তু ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যাওয়ায় তাদের দেখভালের বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।
পোষাপ্রাণী হিসেবে বিড়ালের প্রতি সবার ভালোবাসা একটু বেশিই। এই ছোট্ট প্রাণীটি শরীরের আশপাশে থাকতেই বেশি ভালোবাসে। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে বা দূরে কোথাও কোনো স্বজনের বাড়িতে গেলে গা ঘেঁষে থাকতে অভ্যস্ত এই প্রাণীটি।
বিড়ালের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও তার ছানাদের কথা চিন্তা করে হল কর্তৃপক্ষ শনিবার (১৪ মার্চ) মা বিড়াল ও তার চার ছানাকে নিরাপদ রাখতে ছাত্রাবাসের রান্নাঘরে স্থানান্তর করে। বর্তমানে তাদের খাবার ও দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছেন কলেজের নৈশ প্রহরী হাবিব খান।
নৈশ প্রহরী হাবিব খান বলেন, ঈদের ছুটিতে কলেজ বন্ধ হয়ে গেছে সেই সাথে হল ও বন্ধ। হলের শিক্ষার্থীরা এই বিড়াল টিকে লালন পালন করত। তারা ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার কারণে, বিড়ালটির খাদ্য সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমার বাসা ক্যাম্পাস এর কাছেই, আমি ২৪ ঘন্টা এখানেই থাকি।আমি মানবিক দিক থেকে বিড়ালটির দায়িত্ব নিয়েছি। যতদিন ঈদের ছুটি শেষ না হচ্ছে। আমি প্রতিনিয়ত তাদের খাবার দিব এবং দেখাশোনা করব। বিড়াল আমার খুব পছন্দের একটি প্রাণী। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত মানবিক দিক থেকে এই প্রাণীগুলোর দিকে খেয়াল রাখা।
শিক্ষার্থীরাও এই উদ্যোগকে মানবিকতার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের গনিত বিভাগের শিক্ষার্থী সেতুল তালুকদার বলেন, ‘ফাঁকা হলে এমন ছোট প্রাণের জন্য কেউ এগিয়ে আসছে দেখে সত্যিই ভালো লাগে। মানুষ ও প্রাণীর প্রতি সহমর্মিতা বাড়া খুবই জরুরি।’
অনার্স তৃতীয় বর্ষের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী দ্বীন ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, ‘আমাদের হলে একটি মা বিড়াল চারটি বিড়াল ছানা প্রসব করেছেন। এটি আমাদের জন্য খুবই আনন্দের। হল খোলা থাকাকালীন আমরা তাকে খাবার দিয়েছি। এই মুহূর্তে হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ঈদের ছুটিতে। সেই সাথে ছোট প্রাণগুলোকে নিরাপদ রাখার জন্য কর্তৃপক্ষ কলেজ নৈশ প্রহরী হাবিব ভাইয়ের এই দায়িত্বশীলতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়,মানবিকতা ছোট ছোট কাজেও প্রকাশ পায়।’
অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মৃন্ময় রায় বলেন, ‘আমাদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিড়াল ছিল। ঈদের ছুটিতে আমরা বাড়ি যাচ্ছি কিন্তু এ সময়ে খুব চিন্তিত হচ্ছি এই বিড়ালটির জন্য। তার সাথে চারটি বিড়াল ছানা রয়েছে। হাবিব ভাই যে দায়িত্বটা নিয়েছেন মানুষ হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত অবলা প্রাণীর পাশে দাঁড়ানো।’
শেখ জামাল হলের সহকারী হল সুপার মাসুদ মিয়া বলেন, ‘আমাদের হলে একটি মা বিড়াল চারটি বিড়াল ছানা প্রসব করেছেন। এটা আমাদের জন্য খুব আনন্দের বিষয়। তবে ঈদের ছুটিতে এই বিড়ালের খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে। আমাদের নৈশ প্রহরী হাবিব তাদের খাবারের ব্যবস্থা করছেন। এটা আসলেই খুব মানবিক প্রশংসনীয় কাজ। এজন্য আমাদের হল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে হাবিবের কাছে কৃতজ্ঞ। প্রাণীর প্রতি তার অগাধ ভালোবাসার কারণে আমি সত্যিই আনন্দিত। বিড়ালের লালন পালন করতে যদি কোন সহযোগিতা প্রয়োজন হয় হাবিবের তাহলে আমি যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করব আমার হল কর্তৃপক্ষের হয়ে।’