০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:৫৯

৫০৩ উপজেলায় একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান  © সংগৃহীত

দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনার লক্ষ্যে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর। আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের আসরে অংশ নিতে ইতোমধ্যে অনলাইনে নিবন্ধন করেছে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি জানান, প্রথম আসরে যেখানে নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার, সেখানে দ্বিতীয় আসরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখের বেশি। অর্থাৎ আগের আসরের তুলনায় এবার শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, নিবন্ধিত খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় ১৪ লাখ ক্রীড়াবিদ প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্যায়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। আগামী বছরের মে কিংবা জুন মাসের মধ্যে প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ড সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এবারের আসরে নিবন্ধিতদের মধ্যে ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩ জন কিশোর, যা মোট নিবন্ধনের ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে কিশোরীর সংখ্যা ৬ লাখ ৭৯ হাজার ১৩৫ জন, যা মোট অংশগ্রহণকারীর ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ।

খেলাভিত্তিক নিবন্ধনের পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি সাড়া পাওয়া গেছে ফুটবলে। এ ইভেন্টে নিবন্ধন করেছে ৯ লাখ ১৮ হাজার ৬২০ জন, যা মোট নিবন্ধনের প্রায় ৩৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে অ্যাথলেটিক্স, যেখানে অংশ নিতে নাম লিখিয়েছে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ২১৮ জন।

এ ছাড়া ক্রিকেটে ৩ লাখ ২৯ হাজার ৯১২, ব্যাডমিন্টনে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫২৩, কাবাডিতে ১ লাখ ৯০ হাজার ৯৪৭, দাবায় ১ লাখ ৭১ হাজার ২২৯ এবং সাঁতারে ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৯১ জন নিবন্ধন করেছে।

অন্যদিকে ভলিবলে ৭৪ হাজার ৮২৯, মার্শাল আর্টে ৩১ হাজার ৯৫১ এবং টেবিল টেনিসে ২৪ হাজার ৮০৭ জন অংশগ্রহণের জন্য নাম নিবন্ধন করেছে।

মেয়েদের অংশগ্রহণের হার বিবেচনায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে টেবিল টেনিস। এ ইভেন্টে নিবন্ধিতদের ৬০ দশমিক ৩ শতাংশই মেয়ে। বিপরীতে ক্রিকেটে মেয়েদের অংশগ্রহণের হার সবচেয়ে কম, ২১ দশমিক ৯ শতাংশ।

বিভাগভিত্তিক নিবন্ধনে সবার ওপরে রয়েছে চট্টগ্রাম। এ বিভাগ থেকে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪১২ জন ছেলে-মেয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নিবন্ধন করেছে। জেলা পর্যায়েও শীর্ষস্থান দখল করেছে চট্টগ্রাম। এ জেলা থেকে নিবন্ধন করেছে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮১ হাজার ১৩২ জন।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে মেয়েদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি মনে করেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে মেয়েদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণের প্রতি পরিবারগুলোর আগ্রহ ও উৎসাহ আরও বাড়বে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেয়েদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে অনেক পরিবার অনুপ্রাণিত হবে এবং নিজেদের মেয়েদেরও খেলার মাঠে পাঠাতে উৎসাহিত হবে। মেয়েদের হাত ধরেও যে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে, সেই বিশ্বাস প্রতিটি পরিবারের মধ্যে তৈরি হওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করাই নতুন কুঁড়ি আয়োজনের মূল লক্ষ্য। শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এসব প্রতিভাকে দীর্ঘমেয়াদে পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।

প্রথম আসরে বিজয়ীদের মধ্য থেকে ৪০ জন সেরা প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে বাছাই করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৮ জন মেয়ে এবং ১২ জন ছেলে। দীর্ঘমেয়াদি ও উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে আগামী বছরের জানুয়ারিতে তাদের বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথম আসর থেকে উঠে আসা প্রতিভাবানদের হারিয়ে যেতে দিতে চায় না সরকার। তাদের প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষাজীবনের দায়িত্বও সরকার বহন করবে। প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তার মতে, নতুন কুঁড়ির মতো আয়োজন দেশের ক্রীড়াঙ্গণে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে। খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে নতুন প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি সামাজিক পরিবর্তনও সম্ভব।

খেলোয়াড়দের আগ্রহ ও অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্বিতীয় আসরে প্রতিযোগিতার পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। প্রথম আসরে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন ও মার্শাল আর্ট—এই আটটি ইভেন্ট থাকলেও এবার যুক্ত হয়েছে আরও দুটি নতুন খেলা। সেগুলো হলো টেবিল টেনিস ও ভলিবল। ফলে এবার মোট ১০টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রীর বিশ্বাস, বর্তমান প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে মাদকমুক্ত সমাজ ও সুস্থ জাতি গঠন সহজ হবে। তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়াঙ্গণমুখী করার মাধ্যমে বিদ্যমান সামাজিক ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।