সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বললে ৬১ লাখ টাকা জরিমানা!
ম্যাচ হারলেই ব্যাগ গুছিয়ে কোর্ট ছাড়ার সুযোগ আর নেই। এবারের ইউএস ওপেনে জয়ী কিংবা পরাজিত—দুই খেলোয়াড়কেই ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে বাধ্য করা হচ্ছে। নিয়ম ভেঙে মিডিয়ার সামনে হাজির না হলে গুনতে হতে পারে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১ লাখ ৪২ হাজার টাকা।
ইউএস ওপেনের নিয়মে খেলোয়াড়দের ম্যাচ-পরবর্তী মিডিয়া কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ম্যাচ শেষে জয়ী ও পরাজিত—দুই খেলোয়াড়কেই নির্ধারিত মিডিয়া কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। এর মধ্যে সংবাদ সম্মেলন ছাড়াও আয়োজকদের সম্প্রচারমাধ্যম ও খেলোয়াড়ের নিজ দেশের সম্প্রচারমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার বিষয়টি থাকতে পারে।
অর্থাৎ ম্যাচের ফল যাই হোক, খেলোয়াড়দের দায়িত্ব কোর্টেই শেষ হচ্ছে না। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তবেই তারা পরবর্তী কাজে যেতে পারবেন। কেউ যথাযথ কারণ ছাড়া এই দায়িত্ব এড়িয়ে গেলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৬১ লাখ ৪২ হাজার টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে।
তবে চোট কিংবা অসুস্থতার মতো গ্রহণযোগ্য কারণ থাকলে নিয়মে ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। কোনো খেলোয়াড় শারীরিকভাবে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার অবস্থায় না থাকলে আয়োজকদের অনুমতি নিয়ে মিডিয়া কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে পারেন।
টেনিসে সাধারণত ম্যাচ জেতা খেলোয়াড়ই কোর্টে ও সংবাদমাধ্যমের সামনে বেশি সময় কাটান। বিপরীতে হেরে যাওয়া খেলোয়াড় অনেক সময় দ্রুত কোর্ট ছেড়ে চলে যান। বিশেষ করে কঠিন পরাজয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া অনেক খেলোয়াড়ের কাছেই অস্বস্তিকর। ইউএস ওপেনের এই নিয়ম সেই সুযোগটি অনেকটাই সীমিত করে দিয়েছে।
চলতি ইউএস ওপেনেও ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি দেখা যাচ্ছে। টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে খেলোয়াড়দের ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন প্রকাশ করা হচ্ছে। ফলে কোর্টে জয়-পরাজয়ের পর মিডিয়ার সামনে হাজির হওয়াটিও প্রতিযোগিতার নিয়মিত অংশ হয়ে উঠেছে।
এই নিয়মের আলোচনায় সম্প্রতি সেরেনা ও ভেনাস উইলিয়ামসের ঘটনাও উঠে এসেছে। ইউএস ওপেনে ডাবলসের প্রথম রাউন্ডে হেরে যাওয়ার পর দুই বোন ম্যাচ-পরবর্তী মিডিয়া দায়িত্ব পালন করেননি। ফলে প্রত্যেকের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার করে, অর্থাৎ দুজন মিলে ১ লাখ ডলার জরিমানার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।
খেলোয়াড়দের সঙ্গে গণমাধ্যমের যোগাযোগ ধরে রাখতেই গ্র্যান্ড স্লামের টুর্নামেন্টগুলোতে এমন নিয়ম রাখা হয়েছে। ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া, ম্যাচ বিশ্লেষণ ও অনুভূতি জানতে সাংবাদিকদের সুযোগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দর্শকদের কাছেও ম্যাচের ভেতরের নানা দিক তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।
তবে খেলোয়াড়দের মিডিয়া দায়িত্ব নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০২১ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেনে নাওমি ওসাকা সংবাদ সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। পরে তিনি টুর্নামেন্ট থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। সেই ঘটনা গ্র্যান্ড স্লামে খেলোয়াড়দের মিডিয়া দায়িত্ব, মানসিক চাপ ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়টি নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।