২৭ জুলাই ২০২৬, ১৮:৩৯

নিয়ন আলোয় আঁকা রূপকথা: ঢাকার আকাশে যখন পাবজি মোবাইল আর নারুতোর মহাকাব্যিক মেলবন্ধন 

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাজারো তরুণ-তরুণী  © সংগৃহীত

​এক বুক কৌতূহল আর অনিশ্চয়তা নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঘাসে পা রেখেছিল হাজারো তরুণ-তরুণী। রাজধানীর পিচঢালা রাজপথের গাড়ির হর্ন আর যান্ত্রিক কোলাহল তখনও পেছনে ফেলে পুরোপুরি আসা যায়নি, কিন্তু সোহরাওয়ার্দীর ঐতিহাসিক সবুজ চত্বরে জমে উঠেছিল এক অদ্ভুত নীরব উত্তেজনা। ঘড়ির কাঁটা যখন সন্ধ্যার অন্ধকারকে আরও গাঢ় করে তুলছিল, তখন কেউ জানত না—ঐতিহাসিক এই উদ্যানের আকাশ আজ রাতে আর শুধু তারা দেখার জায়গা থাকবে না; রূপ নেবে এক মায়াবী ক্যানভাসে।

হঠাৎ করেই চারপাশের যান্ত্রিক বাতাস শান্ত হয়ে এলো। একটি তীব্র গুঞ্জন শুনে সবাই মাথা তুলে তাকালো শূন্যে। নৈশাকাশের বুকে এক অভূতপূর্ব আলো ঝলসে উঠতেই মুহূর্তের মধ্যে গর্জে উঠলো উল্লাস! ঢাকার আকাশে উন্মোচিত হলো দেশের ইতিহাসের অন্যতম প্রথম ও অনন্য পাবজি মোবাইল এলইডি ড্রোন শো।

​স্মৃতির উদ্যানে প্রযুক্তির মহাকাব্য

​যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কতশত ইতিহাসের নীরব সাক্ষী, সেই ঐতিহাসিক মাটিতে দাঁড়িয়ে আজ হাজার হাজার চোখ বিষ্ময়ে আটকে রইল মহাশূন্যে। আলো আর আধুনিক প্রযুক্তির এই মহোৎসবে উদ্ভাসিত হলো বিশ্বখ্যাত গেম 'পাবজি মোবাইল' এবং বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় অ্যানিমে 'নারুতো শিপুদেন'-এর মহাকাব্যিক কোলাবোরেশন।

​আকাশের বুকে ভাসমান সেই প্রযুক্তির অলৌকিক আলো দেখতে দেখতে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নিয়ন নীল ও হলুদ আলোয় শূন্যে ফুটিয়ে তুললো গেমিং জগতের বিখ্যাত সেই 'পাবজি হেলমেট'। উপস্থিত ভিড়ের মধ্য থেকে তরুণদের সোল্লাস চিৎকার ছড়িয়ে পড়ল পুরো উদ্যানে! কিন্তু চমকের তখনও অনেক বাকি। ক্যানভাস তো কেবল প্রস্তুত হচ্ছিল!

​হঠাৎ আলোর রঙ বদলে হয়ে গেল গাঢ় কমলা। মহাশূন্যের বুকে ভেসে উঠলো নারুতোর আইকনিক 'কোণোহাগাকুরে' (Leaf Village)-এর প্রতীক, আর তার পরপরই আলো দিয়ে নিখুঁতভাবে তৈরি হলো নারুতোর বিখ্যাত 'রাসেনগান' এবং পাবজি মোবাইলের এয়ারড্রপ বক্স! মনে হচ্ছিল, কল্পনার ফ্যান্টাসি জগতটা যেন সত্যি সত্যি নেমে এসেছে ঢাকার ইট-কাঠের বাস্তবতায়।

আলো ও আবেগের এক মেলবন্ধন

​মাঠে উপস্থিত থাকা ধানমন্ডির ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভীরের চোখে তখন অবিশ্বাস্য এক আনন্দ। পাশে দাঁড়ানো বন্ধুদের কাঁধে হাত রেখে সে ফিসফিস করে বলে উঠলো, "ভাই, পাবজি আর নারুতো একসাথে... তা-ও আবার ঢাকার আকাশে লাইভ! আমি কি স্বপ্ন দেখছি?"

​শুধু তানভীর বা তার বন্ধুরা নয়, আলোয় ঝিলমিল করে ওঠা উদ্যানের ঘাসে বসেছিল নানা বয়সী মানুষ। অনেক বাবা-মা তাঁদের ছোট সন্তানদের কাঁধে চেপে ধরেছিলেন, যাতে রাতের আকাশে ফুটে ওঠা এই আলোর রূপকথা একটুও হাতছাড়া না হয়। মধ্যবয়সী এক বাবা তাঁর ছোট্ট মেয়েকে আঙুল উঁচিয়ে বলছিলেন, "দেখো আম্মু, আকাশে আলোর পাখিগুলো কেমন জাদুর মতো ছবি আঁকছে!"

​প্রযুক্তি, গেমিং এবং অ্যানিমে সংস্কৃতির এই মেলবন্ধন কেবল একটি বাণিজ্যিক আয়োজন রইল না; তা হয়ে উঠলো বিভিন্ন প্রজন্মকে এক সুতোয় বাঁধার এক অলৌকিক সন্ধ্যা।

গেমিং ইন্ডাস্ট্রিতে এক নতুন ভোরের সূর্য

​বাংলাদেশে গেমিং এখন আর নিছক 'সময় কাটানো'র অনুষঙ্গ নয়। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কৃতি, একটি আবেগ, এবং একটি সম্ভাবনাময় ইন্ডাস্ট্রি। পাবজি মোবাইলের এই দূরদর্শী উদ্যোগটি প্রমাণ করে দিল যে, এদেশের গেমিং কমিউনিটি বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান কতটা সুদৃঢ় করছে।

​আকাশের নিয়ন আলো যখন একে একে নিভে আসছিল, তখনও উদ্যানে থামেনি করতালি আর আনন্দের উচ্ছ্বাস। আলো মিলিয়ে গেলেও দর্শকদের চোখের কোণে রয়ে গিয়েছিল এক অদ্ভুত মায়াবী রেশ। রাতটি কেবল একটি প্রদর্শনী ছিল না; এটি ছিল ঢাকার আকাশে নতুন এক যুগের সূচনা—যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি আর তরুণ মনের স্বপ্নের সীমানা এক হয়ে মিশে গেছে দূর দিগন্তে।