বিশ্বকাপের বাসে আগুন দিয়ে জয় উদযাপন করল সমর্থকরা
কয়েক দশকের অপেক্ষার পর এনবিএ ফাইনালসে নিউ ইয়র্ক নিকস ঐতিহাসিক শিরোপা জয় উদযাপনের সুযোগ পেল। তবেই মুহুর্তেই সেই আনন্দ রুপ নিল ভয়াবহ বিষাদে। উদযাপনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনে নিকস সমর্থকদের চরম বিশৃঙ্খলা, বিশ্বকাপের জন্য রাখা বাসে অগ্নিসংযোগ এবং এক কিশোরের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৩ জুন) রাতে এই আনন্দ উল্লাস রূপ নেয় চরম হাঙ্গামায়। খবর বিবিসির
শনিবার রাতে এনবিএ ফাইনালসের পঞ্চম ম্যাচে সান আন্তোনিও স্পার্সকে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে নিউ ইয়র্ক নিকস। ১৯৭৩ সালের পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল দলটি। এর আগে ১৯৯৪ ও ১৯৯৯ সালের ফাইনালে তারা যথাক্রমে হিউস্টন রকেটস ও সান আন্তোনিও স্পার্সের কাছে হেরেছিল। দীর্ঘ ৫৩ বছর পর এই ঐতিহাসিক জয়ের পর হাজার হাজার বাস্কেটবল ভক্ত ম্যানহাটনের রাস্তায় নেমে আসেন। বার ও আউটডোর ভেন্যুগুলো থেকে ভক্তরা রাস্তায় বেরিয়ে এসে আতশবাজি ও স্মোক গ্রেনেড ফাটিয়ে “নিকস ইন ফাইভ!” স্লোগানে চারদিক মুখরিত করে তোলেন।
মধ্যরাতের এই উদযাপন একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়। নিউ ইয়র্ক সিটি এলাকায় অনুষ্ঠিত ব্রাজিল বনাম মরক্কোর মধ্যকার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ (যা ড্র হয়েছিল) শেষে ফুটবল সমর্থকদের বহনকারী প্রায় ১৫টি শাটল বাসের একটি বহর টাইমস স্কয়ারে পৌঁছালে বাস্কেটবল ভক্তরা সেটিকে ঘিরে ধরে। শত শত তরুণ হুট করেই বাসের ওপর চড়ে বসে, ভেতরে ঢুকে চালকের আসনে বসে পড়ে।
ফুটবল ভক্তদের পরিবহনের জন্য নগর সরকারের ভাড়া করা হলুদ রঙের স্কুল বাসগুলোর একটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রয়টার্সের একজন সাংবাদিক বাসটিকে দাউদাউ করে জ্বলতে দেখেন। তবে এই অগ্নিকাণ্ডে কেউ আহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উত্তেজিত জনতার হামলায় আরও অন্তত তিনটি শাটল বাস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাসের ছাদ থেকে ব্রাজিলের জাতীয় পতাকা ওড়াতে দেখা যায় বাস্কেটবল ও ফুটবল সমর্থকদের।
নিউ ইয়র্ক পুলিশের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, রাত ২টার দিকে টাইমস স্কয়ারে উদযাপন চলাকালীন ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভিড়ের মধ্যে মুখ রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে হেঁটে যেতে দেখা গেলেও তার আঘাতের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।
বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখে ফেরা মরক্কো বংশোদ্ভূত ৪৯ বছর বয়সী কানাডীয় নাগরিক ইউসেফ সাব্বর, যিনি বাসটি ঘেরাও হওয়ার ঠিক আগেই নেমে পড়েছিলেন, তিনি বলেন, ‘তারা মূলত নিজেদের আনন্দ প্রকাশ করছে, কিছুটা সহিংস উপায়ে হলেও এটিই এখানকার বাস্তব চিত্র।’
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিউ ইয়র্ক পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়।