৩০ মার্চ ২০২৬, ১৩:৩১

মাঠ চাইলেন সাবিনা, প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘অলমোস্ট ডান’

ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর   © সংগৃহীত

এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে। খেলাধুলাকে একটি মর্যাদাপূর্ণ ‘পেশা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে জাতীয় ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা দেন তিনি। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গৌরব বয়ে আনা স্বর্ণ, রৌপ্য ও তাম্র পদকজয়ী মোট ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আর্থিক পুরস্কারের চেক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে একক পর্যায়ে স্বর্ণজয়ীদের ৩ লাখ টাকা, রৌপ্যপদক বিজয়ীদের দুই লাখ এবং ব্রোঞ্চপদক জয়ীদের এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়। এ ছাড়া দলগতভাবে বিজয়ীদের যথাক্রমে ২ লাখ, দেড় লাখ ও এক লাখ টাকা করে আর্থিক পুরস্কার দেয়া হয়।

পাশাপাশি এখন থেকে প্রতি মাসেই এক লাখ টাকা করে পাবেন বিভিন্ন খেলার জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা। যদিও প্রথম ধাপে ২০টি ডিসিপ্লিনের ১২৯ জন এই কার্ড দেওয়া হয়েছে। তবে ধাপে ধাপে ৫০০ জনকে এর আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। একইসঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদেরও এই সম্মাননার আওতায় এনে অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া সংস্কৃতির নজির স্থাপন করেছে সরকার। 

এদিকে জাতীয় নারী ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের হাত ধরে দু’বার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া তারই অধিনায়কত্বে সাফ ফুটসালেও অপরাজিত চ্যাম্পিয়নের খেতাব পায় বাঘিনীরা। ক্রীড়াঙ্গনের ঐতিহাসিক মুহূর্তে সুযোগ পেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন সাবিনা। শুরুর দিকে একটি স্ত্রিপ্ট নিয়ে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন তিনি। তবে সাবিনাকে নিজ থেকেই অনুভূতি প্রকাশ করতে বলেন সরকারপ্রধান। পরে নিজের মতো করেই কথা বলতে শুরু করেন সাবিনা। 

অনুভূতি প্রকাশের একপর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের কাছে সাবিনা দাবি করেন, ‘অনেক স্পোর্টস অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। ফুটসাল প্রথমবার খেলতে গিয়েছিলাম, আমরা ভালো ফলাফল করেছি। বাংলাদেশে ভালো ফুটসাল গ্রাউন্ড নাই, আমাদের জন্য মাঠের ব্যবস্থা করেন।’

ফুটসাল অধিনায়কের এমন দাবির পরপরই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেন প্রধানমন্ত্রী। সাবিনার বক্তব্য শেষ হতে না হতেই সরকারপ্রধান বলেন, ‘সাবিনা, সাবিনা তোমার যে মাঠের দাবিটা, এটা আমরা প্রক্রিয়া শুরু করেছি। মোটামুটিভাবে শেষ হয়ে আসছে কাজটা। মেয়েরা যেন প্র্যাকটিস করতে পারে, খেলতে পারে, সেটা মাঠ মোটামুটি সিলেকশন হয়েছে। অলমোস্ট ডান।’ 

এ সময় অনুষ্ঠানে ফুটবল, ক্রিকেটসহ অন্য সংগঠকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাবিনা বলেন, ‘যে সকল ক্রীড়া ফেডারেশনের সদস্যরা রয়েছেন তাদের প্রতি অনুরোধ খেলোয়াড়দের প্রতি খেয়াল রাখবেন। আমরা খেলোয়াড়রা আরও বেশি সাফল্য এনে দিতে পারব।’