১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৩১

ডাকসুর আয়নায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ

এনায়েত এইচ জাকারিয়া  © টিডিসি সম্পাদিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ‘ডিইউ ইভ্যালুয়েশন’ নামের যে ওয়েবসাইট চালু করেছে, তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকদের বড় অংশ ক্ষুব্ধ। তাদের যুক্তি শিক্ষক মূল্যায়ন ডাকসুর এখতিয়ারে পড়ে না, এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা আছে, এবং যারা এটি চালু করেছেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এখতিয়ারের কথাটি আইনত সঠিক। কিন্তু এই সত্য উচ্চারণ করেই যদি আলোচনা শেষ হয়, তাহলে আসল প্রশ্নটি ধামাচাপা পড়বে শিক্ষার্থীদের কেন নিজেদের হাতে এই কাজ তুলে নিতে হলো? ২০২২ সালের নভেম্বরে সিন্ডিকেট সভায় ‘টিচিং ইভ্যালুয়েশন’ চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছিল; ২০২৪ সালে ‘লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ নামের প্ল্যাটফর্মও দাঁড় করানো হয়েছিল। কোনোটিই আলোর মুখ দেখেনি। সর্বোচ্চ পর্ষদে পাস হওয়া সিদ্ধান্ত যখন বছরের পর বছর ফাইলবন্দি থাকে, তখন শূন্যস্থান তৈরি হয় আর শূন্যস্থান কেউ না কেউ পূরণ করেই।

ওয়েবসাইটটির পদ্ধতিগত দুর্বলতা স্পষ্ট। ২ হাজার ৪৫ জন শিক্ষকের বিপরীতে ৯ হাজার ৩৮২টি রিভিউ মানে শিক্ষকপ্রতি গড়ে পাঁচটিরও কম মতামত; ক্লাস না করেও মন্তব্য করার সুযোগ থাকলে নির্ভরযোগ্যতা আরও কমে। নাম ধরে প্রকাশ্যে রেটিং টাঙিয়ে দেওয়াও দায়িত্বশীল মূল্যায়নের বৈশিষ্ট্য নয়। তবু কাজটি সাহসী। আয়না ত্রুটিপূর্ণ হলেও তাতে ভেসে ওঠা মুখটিকে অস্বীকার করা যায় না। প্রকাশিত ৭০৮ জনের মধ্যে ৯৫ জনের রেটিং ২-এর নিচে, ১২৭ জনের ২ থেকে ৩-এর মধ্যে অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষক সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন নেতিবাচক। সংখ্যাটি নিখুঁত নয়, কিন্তু অসন্তুষ্টি কাল্পনিক নয়। প্রশ্নটি তাই রেটিংয়ের নয়, আমাদের উচ্চশিক্ষার সামগ্রিক মানের।

সেই মানের গল্প শুরু হয় শ্রেণিকক্ষে নয়, নিয়োগ বোর্ডের টেবিলে। সবচেয়ে বড় স্বীকারোক্তিটি এসেছে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেই। গত মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে ঢাবির পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগ, দুর্বল গবেষণা ও মানসম্পন্ন প্রকাশনার অভাব; মেধা ও ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগ হলে পরিস্থিতি বদলাবে।

পর্যবেক্ষণটি নতুন নয়, নতুন কেবল স্বীকৃতিটুকু। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের গবেষণায় আগেই উঠে এসেছিল, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক নিয়োগে মেধার বদলে রাজনৈতিক পরিচয় ও সম্পৃক্ততা নির্ধারক ভূমিকা রেখেছে; উপাচার্যরা নিয়োগে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখলেও তারা নিজেরাই ঊর্ধ্বতন মহল, প্রভাবশালী শিক্ষকনেতা ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন আর এর মূল্য দিতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। কারণটি কাঠামোগত: নিয়োগের মানদণ্ড যখন দুর্বলভাবে সংজ্ঞায়িত, সেই শূন্যতা পূরণ করে রাজনৈতিক আনুগত্য। যেখানে পিএইচডি গবেষণা, পিয়ার-রিভিউড প্রকাশনা ও বিশেষজ্ঞের সামনে গবেষণা উপস্থাপনের ভিত্তিতে নিয়োগ হওয়ার কথা, সেখানে আমাদের নিয়োগ-ছকে এসএসসি-এইচএসসির ফলের জন্য নম্বর বরাদ্দ থাকে আর পিএইচডি গৌণ হয়ে যায়। 

প্রতিবেশীরা উল্টো পথে হেঁটেছে পাকিস্তানের হায়ার এডুকেশন কমিশন টেনিওর-ট্র্যাক পদ্ধতি, গবেষণাভিত্তিক পদোন্নতি ও প্রতিযোগিতামূলক অনুদান চালু করে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও প্রকাশনা বাড়িয়েছে; ভারতে ইউজিসির যোগ্যতা-কাঠামো নিয়োগকে পিএইচডিকেন্দ্রিক করেছে, অথচ সেখানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়মিত হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠান অকার্যকর হয়নি।

যিনি রাজনৈতিক পরিচয়ে নিয়োগ পান, তিনি নিয়োগের পর রাজনীতি ছাড়েন না বরং সেটিকেই উন্নতির সিঁড়ি বানান। শিক্ষক সমিতির প্যানেল নির্বাচন, চেয়ারম্যান, ডিন, প্রভোস্ট, প্রক্টর, সিন্ডিকেট ও উপাচার্য পদ সবই ওই বলয়ের ভেতর দিয়ে যায়। সরকার বদলায়, প্যানেলের রং বদলায়, বন্দোবস্তটি একই থাকে। এ বছরের মে মাসেই একটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকীয়তে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, নতুন সরকারের আমলেও কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ পেয়েছেন দলীয় ঘরানার শিক্ষক-প্যানেলের নেতারা।

দ্বিতীয় ক্ষরণটি আর্থিক। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ শিক্ষক নিজের বিভাগের চেয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন ক্লাসে বেশি সময় দেন ইউজিসি নিজেই এক দশকেরও বেশি আগে বার্ষিক প্রতিবেদনে এই পর্যবেক্ষণ তুলেছিল। ২০২২ সালে ইউজিসি ‘টিচিং লোড ক্যালকুলেশন পলিসি’ চূড়ান্ত করে, যেখানে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কর্মসময় ১৩ ঘণ্টা সরাসরি পাঠদান এবং ২৭ ঘণ্টা প্রশ্ন প্রণয়ন, খাতা মূল্যায়ন, গবেষণা ও শিক্ষার্থী পরামর্শে ব্যয়ের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়; নীতিমালাটি এসেছিলই এই পর্যবেক্ষণ থেকে যে একাংশ শিক্ষক নিজ বিভাগে নির্ধারিত সময় না দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে ক্লাস নিচ্ছেন।

বাইরে পড়ানো নিষিদ্ধ নয়, জ্ঞানের বিনিময়ও মন্দ নয়। কিন্তু যার নিজের ক্লাস অনিয়মিত, সিলেবাস অসম্পূর্ণ, খাতা মূল্যায়নে মাসের পর মাস দেরি তার দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে নিয়মিত উপস্থিতি একটি নৈতিক প্রশ্ন তোলে। শিক্ষার্থীরা সেই প্রশ্নটিই এতদিন নিচু গলায় করত; ডাকসুর ওয়েবসাইট তা উঁচু গলায় করেছে।

ফলাফলের আভাস ইউজিসির নিজস্ব জরিপেই আছে পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আড়াইশ শিক্ষককে নিয়ে চালানো জরিপে উল্লেখযোগ্য অংশের পাঠদান অত্যন্ত দুর্বল এবং একটি অংশ গবেষণার সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নন বলে দেখা গেছে। বেসরকারি খাতের চিত্রও স্বস্তিদায়ক নয়; আইন অনুযায়ী খণ্ডকালীন শিক্ষক এক-তৃতীয়াংশের বেশি হওয়ার কথা নয়, বাস্তবে অনেক প্রতিষ্ঠানে সেই সীমা বহু আগেই ভেঙে পড়েছে।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা মানদণ্ড মনে করি, তারা কাজটি কীভাবে করে? অক্সফোর্ডে বিভাগ ও ফ্যাকাল্টিগুলো পৃথক কোর্সের ওপর জরিপ চালায় এবং লেকচারের মান যাচাইয়ে আলাদা প্রশ্নমালা ব্যবহার করে; শিক্ষার্থীদের মতামত তুলে আনে যৌথ পরামর্শক কমিটি, আর বিশ্ববিদ্যালয়ব্যাপী জরিপগুলো ডিজাইন ও পরিচালিত হয় ছাত্র সংসদের সঙ্গে যৌথভাবে। 

হার্ভার্ডে পাঁচ বা তার বেশি শিক্ষার্থীর প্রতিটি কোর্সে মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক; সময়সীমা শেষ হয় ফল প্রকাশের আগে, শিক্ষক নম্বর জমা না দেওয়া পর্যন্ত ফলাফল দেখতে পান না, পূর্ণ প্রতিবেদন যায় কেবল শিক্ষক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যানের কাছে এবং পদোন্নতির বিবেচনায় ব্যবহৃত হয়। এমআইটিতেও একই নীতি তথ্যের মালিক বিভাগ, উত্তরদাতার পরিচয় মুছে ফেলা হয়, প্রকাশ সমষ্টিগত। যুক্তরাজ্যে ‘ন্যাশনাল স্টুডেন্ট সার্ভে’-তে ২০২৬ সালে তিন লাখ ষাট হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন, ফল প্রকাশ পায় কোর্স ভিত্তিকভাবে এবং টিচিং এক্সিলেন্স ফ্রেমওয়ার্কে ব্যবহৃত হয় তবে মন্তব্য থেকে ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়া হয়।

তিনটি শিক্ষা এখান থেকে স্পষ্ট। মূল্যায়ন স্বেচ্ছামূলক নয়, বাধ্যতামূলক ও প্রাতিষ্ঠানিক। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে কাঠামোর ভেতরে জায়গা দেওয়া হয়, বাইরে ঠেলে দেওয়া হয় না। আর প্রকাশ ঘটে কোর্স বা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে; ব্যক্তির নামে রেটিং টাঙানো কোথাও প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা নয়। ডাকসু প্রথম দুটির পক্ষে দাঁড়িয়েছে, তৃতীয়টিতে হোঁচট খেয়েছে; প্রশাসন প্রথম দুটিতে ব্যর্থ হয়ে এখন কেবল তৃতীয়টি নিয়ে সোচ্চার।

উদ্যোগটি ডাকসুর কাজ নয় সত্য। কিন্তু এটি সাহসী কাজ এবং চোখ খুলে দেওয়ার মতো কাজ, যা অনুসরণ করার দায়িত্ব এখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরই। ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক নিজেই বলেছেন, প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থাটি চালু করলে তারা নিজেদেরটি বন্ধ করে দেবেন। কাজেই জবাবটি শাস্তি নয়, প্রতিস্থাপন আগামী সেমিস্টার থেকেই সব বিভাগে বাধ্যতামূলক মূল্যায়ন চালু করে ওয়েবসাইটটিকে অপ্রয়োজনীয় করে তোলা। শাস্তির পথে গেলে শিক্ষার্থীদের মূল অভিযোগটিই প্রমাণিত হবে: প্রশাসন মূল্যায়ন চায় না, জবাবদিহি এড়াতে চায়। 

এখানেই অস্বস্তিকর প্রশ্নটি আসে একটি ত্রুটিপূর্ণ, স্বল্প অংশগ্রহণের ওয়েবসাইট নিয়ে এত তীব্র ভয় কেন? কিছু কারণ সম্পূর্ণ বৈধ। পাঁচ-ছয়টি মন্তব্যের ভিত্তিতে একজন শিক্ষকের পেশাগত জীবনের রায় লেখা হয়ে যেতে পারে; যিনি কখনো ক্লাসেই আসেননি তিনিও নম্বর বসাতে পারেন; প্রকাশ্য তালিকায় জবাব দেওয়ার সুযোগ থাকে না; আর গবেষণা বারবার দেখিয়েছে, নারী শিক্ষক, কঠোরভাবে খাতা দেখা শিক্ষক ও বড় ক্লাসের শিক্ষক ধারাবাহিকভাবে কম রেটিং পান। এই আপত্তিগুলো সবচেয়ে নিষ্ঠাবান শিক্ষকও করতে পারেন।

কিন্তু সব ভয় এক জায়গা থেকে আসে না। খারাপ পদ্ধতির স্বাভাবিক জবাব ভালো পদ্ধতি শাস্তির হুমকি নয়। যিনি নিয়মিত ক্লাস নেন, সিলেবাস শেষ করেন, প্রশ্ন করলে বিরক্ত হন না, সময়মতো খাতা ফেরত দেন, তাঁর কাছে মূল্যায়ন হুমকি নয়। ওই ওয়েবসাইটেই ৭০৮ জনের মধ্যে ৩১২ জন ৪ থেকে ৫-এর মধ্যে রেটিং পেয়েছেন; তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ ছিল না। 

ভয় তীব্র সেখানেই, যেখানে ভেতরে একটি নীরব হিসাব কাজ করে এই সেমিস্টারে কতটি ক্লাস নিয়েছি, কোন সন্ধ্যাগুলো অন্য ক্যাম্পাসে কেটেছে, কত মাস পর খাতা জমা দিয়েছি, আর নিয়োগপত্রটি ঠিক কোন যোগ্যতার জোরে এসেছিল। এটি নিজের সামর্থ্য ও আন্তরিকতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সংকট। যে মর্যাদা নিয়োগ বোর্ডে দলীয় বিবেচনায় ও পদোন্নতিতে প্যানেলের সমীকরণে অর্জিত, শ্রেণিকক্ষের সরাসরি সাক্ষ্যের সামনে তা নড়বড়ে হয়ে পড়ে। তাই আপত্তি আসে ‘শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা’র ভাষায় অথচ মর্যাদা রক্ষা হয় শ্রেণিকক্ষে, প্রশাসনিক নোটিশে নয়।

তবু সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি থেকে যায় প্রশাসনের মূল্যায়ন কি নিরপেক্ষ হবে? যে প্রশাসন নিজেই প্যানেলের ভারসাম্যে গঠিত, তার হাতে মূল্যায়নের ক্ষমতা গেলে তা সহজেই পক্ষপাতের হাতিয়ার হতে পারে। ভিন্নমতাবলম্বী শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে দেওয়া কিংবা নিজের বলয়ের শিক্ষককে আড়াল করা দুটিই সমান সম্ভব। ডাকসুর মূল্যায়নে রাজনীতিকীকরণের যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, প্রশাসনের মূল্যায়নেও তা সমানভাবেই বহাল।

এ কারণেই নকশাটি রাজনীতির নাগালের বাইরে রাখতে হবে। মূল্যায়নের অধিকার থাকবে কেবল অন্তত ৭৫ শতাংশ ক্লাস করা শিক্ষার্থীর; সময়সীমা শেষ হবে ফল প্রকাশের আগে; ফল প্রকাশ পাবে একক গড়ে নয়, বণ্টন, অংশগ্রহণের হার ও ন্যূনতম উত্তরদাতার শর্তসহ; ফল যাবে প্রশাসনিক চেইনে, জনপরিসরে নয়; এবং রেটিং কখনোই পদোন্নতির একমাত্র ভিত্তি হবে না পাশে থাকবে সহকর্মীর শ্রেণিকক্ষ পর্যবেক্ষণ, কোর্স ফাইল, সিলেবাস সম্পন্নের রেকর্ড, খাতা মূল্যায়নের সময়ানুবর্তিতা ও গবেষণা প্রকাশনা। পুরো প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধানে থাকবে আইকিউএসির মতো পেশাদার কাঠামো, যার সদস্যপদ প্যানেল-ভাগাভাগিতে নির্ধারিত হবে না।

সবচেয়ে বড় সংস্কারটি অবশ্য মূল্যায়নের নয়, নিয়োগের। যাকে মেধার বদলে পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, রেটিং দিয়ে তাকে ভালো শিক্ষক বানানো যাবে না। নিয়োগে পিএইচডি ও গবেষণা প্রকাশনাকে কেন্দ্রে আনা, উন্মুক্ত লিখিত মানদণ্ড প্রকাশ, বাইরের বিশেষজ্ঞের অংশগ্রহণ, প্রার্থীর গবেষণা-উপস্থাপনা বাধ্যতামূলক করা এবং নিয়োগ বোর্ডের কার্যবিবরণী সংরক্ষণ ও নিরীক্ষা এগুলো ছাড়া বাকি সব সংস্কার কসমেটিক।

ডাকসুর ওয়েবসাইটটি হয়ত টিকবে না, টেকা উচিতও নয়। কিন্তু আয়নাটি ভেঙে ফেললে মুখ বদলায় না। একজন শিক্ষকের প্রকৃত রণক্ষেত্র শ্রেণিকক্ষ, গ্রন্থাগার ও গবেষণাগার প্যানেলের সভা কিংবা দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের সান্ধ্য ক্লাস নয়। এই সহজ কথাটি প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে র‍্যাংকিংয়ের আক্ষেপ আমাদের প্রতি বছরই করতে হবে।

লেখক: উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ও জননীতি বিশ্লেষক