দৌলৎদিয়া রুটের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রশ্ন: কবে বাস্তবায়ন হবে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু?
দৌলৎদিয়া ফেরিঘাট-এ ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। খবরটি অত্যন্ত হৃদয় বিদারক। ঢাকা–কুষ্টিয়া রুটে যারা নিয়মিত যাতায়াত করেন, তারা হয়তো খুব ভালো করেই জানেন এই রুটের অধিকাংশ পরিবহনের অবস্থা কতটা শোচনীয়। সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, স্টাফদের অসৌজন্যমূলক আচরণ ইত্যাদি সব মিলিয়ে যাত্রীরা যেন প্রতিনিয়ত এক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়েই ভ্রমণ করেন। ফেরিঘাটের ফেরীগুলোর ফিটনেসেরও বেহাল দশা। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পদ্মার পানি বাড়ার সাথে সাথে এই রুটে দুর্ঘটনাগুলোও বাড়তে থাকে। যাত্রীদের অসংখ্য অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভ্রুক্ষেপহীন।
ঢাকা–কুষ্টিয়া রুটে যাতায়াতের জন্য বর্তমানে তিনটি রুট ব্যবহৃত হয়:
১. কুষ্টিয়া – যমুনা সেতু – ঢাকা → প্রায় ২৯০ কি.মি.
২. কুষ্টিয়া – পদ্মা সেতু – ঢাকা → প্রায় ২১০ কি.মি.
৩. কুষ্টিয়া – দৌলৎদিয়া ফেরিঘাট – ঢাকা → প্রায় ১৮৫ কি.মি.
আজ দুর্ঘটনার কবলে পড়া সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশ্য চলছিল কুষ্টিয়া-দৌলৎদিয়া ফেরিঘাট-ঢাকা রুটে। যে রুটটি দূরত্বে সবচেয়ে কম এবং যাত্রীপ্রবাহ বেশি হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, এই রুটেই সেবার মান তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে পিছিয়ে। যানবাহনের ফিটনেস, ড্রাইভিংয়ের মান এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে প্রতিনিয়ত যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, এমনকি ঝুঁকির মধ্যেও পড়ছেন। যার বাস্তব প্রামাণ আজ আমরা চাক্ষুষ দেখতে পেলাম। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই রুটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে। আর এটিই এখন সময়ের দাবি।
আজকের এই দুর্ঘটনা শুধু একটি ঘটনা নয়, এটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার নির্মম প্রতিচ্ছবি। এর ক্ষতি অপূরণীয়। অদূর ভবিষ্যতে এইরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না চাইলে অনতিবিলম্বে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন করতে হবে। একইসাথে পরিবহন খাতের চলমান সিন্ডিকেটের লাগাম টেনে ধরতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি রহম করুন।
লেখক, তাজিনুর রহমান
কার্যনির্বাহী সদস্য, ডাকসু