শিক্ষক নিবন্ধনের ভাইভার নম্বর বাড়তে পারে
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। আসন্ন ১৯তম নিবন্ধন থেকেই এটি কার্যকর হতে পারে বলে জানা গেছে।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়। পূর্বে শিক্ষক নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২০ রাখা হয়েছিল। এটি ১০ নম্বর বাড়িয়ে ৩০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সূত্রের তথ্য বলছে, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর সুপারিশ করা হলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ ছাড়া প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার নম্বরে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। আগের মতোই প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ১০০ এবং লিখিত পরীক্ষায় ১০০ নম্বর রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে এনটিআরসিএর এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এটি কেবল প্রস্তাব, চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে আরও আলোচনা হবে। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে পরবর্তীতে সেটি জানিয়ে দেওয়া হবে।’
এদিকে বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এনটিআরসিএ। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী দুই মাসের মধ্যে এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে চায় সংস্থাটি।
এনটিআরসিএ সূত্র জানিয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চলছে। এ অবস্থায় নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এজন্য দ্রুত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের চিন্তাভাবনা থাকলেও সেটি সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে সংস্থাটি।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে এনটিআরসিএর এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তাগাদা দেওয়া হয়েছে। আমরা সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। তবে অক্টোবরের মধ্যে শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শেষ না হলে নভেম্বরের দিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে।’
শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শেষ হওয়ার ওপর ১৯তম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়টি নির্ভর করছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরপরই প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।’
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা তথা ৯ম এনটিআরসিএ শিক্ষক (প্রবেশ পর্যায়) নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি আগামী অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান।
ড. মিলন বলেন, দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা তথা ৯ম এনটিআরসিএ শিক্ষক (প্রবেশ পর্যায়) নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবেশ পর্যায়ের শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ, নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০২৫’-এর আলোকে পরীক্ষাটি আয়োজনের জন্য বিদ্যমান ১০৬টি পদের সিলেবাস হালনাগাদ এবং ১৩টি নতুন পদের সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক (প্রবেশ পর্যায়) নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণসংক্রান্ত পরিপত্র প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, সিলেবাস ও পরিপত্র অনুমোদন, অনলাইন আবেদন প্ল্যাটফর্ম হালনাগাদ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার পর আনুমানিক অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা/৯ম এনটিআরসিএ শিক্ষক (প্রবেশ পর্যায়) নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরীক্ষা কত বছর পরপর বাধ্যতামূলকভাবে অনুষ্ঠিত হবে—এ বিষয়ে জানানো যাচ্ছে যে, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬’-এর বিধি ৩-এর উপবিধি (১)-এ কর্তৃপক্ষকে প্রতি পঞ্জিকা বছরে অন্তত একবার পরীক্ষা গ্রহণের বিধান ছিল। তবে ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ, নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০২৫’-এ নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে বাধ্যতামূলকভাবে পরীক্ষা আয়োজনের কোনো বিধান রাখা হয়নি।
শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্যপদের সংখ্যা, শিক্ষক চাহিদা, নিয়োগ কার্যক্রমের প্রস্তুতি এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের ভিত্তিতে পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষাটি সুষ্ঠু ও নিয়মিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিপত্র প্রণয়নের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।