৭৫ হাজার পদে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চেয়ে শিক্ষা সচিব ও এনটিআরসিএ চেয়ারম্যানকে চিঠি
৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত হওয়া ৭৫ হাজার ৭৬৯টি শূন্যপদ অক্ষুণ্ন রেখে দ্রুত গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা। একই সঙ্গে ১৮তম নিবন্ধনধারীদের জন্য কলেজ পর্যায়ের প্রভাষক পদের ৭৫ শতাংশ সংরক্ষণের প্রস্তাব বাতিলেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) এ দাবিতে শিক্ষা সচিব ও বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যানের কাছে আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাশী প্রার্থীরা।
আবেদনপত্রে বলা হয়েছে, এনটিআরসিএ ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ প্রকাশিত ই-রিকুইজিশন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ করে। পরে যাচাই-বাছাই শেষে ৭৫ হাজার ৭৬৯টি পদ চূড়ান্ত করা হয়। বর্তমানে এসব শূন্যপদের ভিত্তিতেই ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তবে সম্প্রতি ওই ৭৫ হাজার ৭৬৯টি শূন্যপদের মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ১৯২টি পদ ১৮তম নিবন্ধনধারীদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাবের খবর নিয়োগপ্রত্যাশীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আবেদনকারীদের দাবি, ১৮তম নিবন্ধনে সুপারিশ বঞ্চিত অধিকাংশ প্রার্থী কলেজ পর্যায়ের প্রভাষক পদসংশ্লিষ্ট হওয়ায় এসব পদ সংরক্ষণ করা হলে নতুন গণবিজ্ঞপ্তিতে প্রভাষক পদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
আবেদনপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএ কলেজ পর্যায়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ শূন্যপদ ১৮তম নিবন্ধনে সুপারিশ বঞ্চিতদের জন্য সংরক্ষণ করে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ পদ নিয়ে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তা নতুন নিয়োগপ্রত্যাশীদের জন্য বৈষম্যমূলক হবে এবং উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ মারাত্মকভাবে সংকুচিত করবে।
নিয়োগপ্রত্যাশীদের হিসাব অনুযায়ী, কলেজ পর্যায়ে প্রভাষক পদের মোট সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ১০০টি। এর ৭৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ৫৭৫টি পদ সংরক্ষণ করা হলে নতুন গণবিজ্ঞপ্তিতে অবশিষ্ট থাকবে মাত্র প্রায় ৫২৫টি পদ। হালনাগাদ হিসেবে কলেজ ও মাদ্রাসা পর্যায়ে মোট ২ হাজার ৭০টি প্রভাষক পদের মধ্যে ১ হাজার ৫৫৩টি পদ সংরক্ষিত হলে সাধারণ নিয়োগের জন্য থাকবে মাত্র ৫১৭টি পদ।
আবেদনপত্রে বিভিন্ন বিষয়ের সম্ভাব্য চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, বাংলা বিষয়ে মোট ১০৮টি পদের মধ্যে অবশিষ্ট থাকবে ২৭টি, ইংরেজিতে ৮১টির মধ্যে ২০টি, অর্থনীতিতে ৫৭টির মধ্যে ১৪টি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ১৩১টির মধ্যে ৩৩টি, ইতিহাসে ২৭টির মধ্যে ৭টি, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে ১০৫টির মধ্যে ২৬টি, দর্শনে ৩১টির মধ্যে ৮টি, সমাজবিজ্ঞানে ২০টির মধ্যে ৫টি, সমাজকর্ম/সমাজকল্যাণে ২১টির মধ্যে ৫টি, মনোবিজ্ঞানে ১৫টির মধ্যে ৪টি, সংস্কৃতে কোনো পদই অবশিষ্ট থাকবে না।
এ ছাড়া পদার্থবিজ্ঞানে ৪৪টির মধ্যে ১১টি, রসায়নে ৬১টির মধ্যে ১৫টি, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণনে ২১টির মধ্যে ৫টি, ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমায় ১৬টির মধ্যে ৪টি, লাইব্রেরি প্রভাষক পদে ৯টির মধ্যে ২টি, ইসলামিক স্টাডিজে ৭২টির মধ্যে ১৮টি, আরবিতে ৬৫৬টির মধ্যে ১৬৪টি, কৃষিতে ১২টির মধ্যে ৩টি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ৬৪৯টির মধ্যে ১৬২টি, হাদিসে ৩টির মধ্যে ১টি, তাফসিরে ৩টির মধ্যে ১টি, আদবে কোনো পদই অবশিষ্ট থাকবে না এবং লাইব্রেরি ও তথ্যবিজ্ঞান (লাইব্রেরি প্রভাষক) বিষয়ে ২১টির মধ্যে ৫টি পদ উন্মুক্ত থাকবে।
আবেদনকারীরা বলেন, এতে লক্ষাধিক নতুন নিয়োগপ্রত্যাশীর জন্য প্রতিযোগিতার সুযোগ ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে যাবে। তারা আরও উল্লেখ করেন, ১৮তম নিবন্ধনধারীরা ইতোমধ্যে সাধারণ ও বিশেষ—উভয় গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। তাদের জন্য আলাদা নীতিগত সমাধান বিবেচনা করা যেতে পারে, তবে নতুন গণবিজ্ঞপ্তির জন্য চূড়ান্ত হওয়া শূন্যপদের বড় অংশ সংরক্ষণ করা হলে মেধাভিত্তিক উন্মুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আবেদনপত্রে এনটিআরসিএর নিবন্ধন পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্যের কথাও উল্লেখ করে বলা হয়েছে, শূন্যপদের ভিত্তিতে স্বচ্ছ, উন্মুক্ত ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করাই এই ব্যবস্থার লক্ষ্য। তাই যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত হওয়া ৭৫ হাজার ৭৬৯টি শূন্যপদ সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ন রেখেই ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা উচিত।
এ অবস্থায় তারা দুটি দাবি জানিয়েছেন। প্রথমত, ৭৫ হাজার ৭৬৯টি শূন্যপদ থেকে ১৮তম নিবন্ধনধারীদের জন্য ৬ হাজার ১৯২টি পদ সংরক্ষণের প্রস্তাব বাতিল করতে হবে। দ্বিতীয়ত, চূড়ান্ত হওয়া ৭৫ হাজার ৭৬৯টি শূন্যপদ অক্ষুণ্ণ রেখে এক সপ্তাহের মধ্যে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও সিলেবাস প্রকাশ করতে হবে।