০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯:০৮

১৯তম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি হতে পারে ঈদের আগেই

এনটিআরসিএ  © ফাইল ছবি

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আসন্ন ঈদুল ফিতরের পূর্বেই এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) একটি সূত্র জানিয়েছে, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য চলতি সপ্তাহ থেকে শূন্য পদের তথ্য (ই-রিকুইজিশন) সংগ্রহ শুরু হবে। ই-রিকুইজিশনের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১০ দিনের সময় দেওয়া হবে। এরপর ঈদের আগেই ১৯তম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। তবে কোনো কারণে যদি ই-রিকুইজিশনের সময়সীমা বাড়ানো হয়, তাহলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময়সীমাও পেছাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা ঈদের আগেই ১৯তম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে চাই। বিষয়টি নির্ভর করছে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহের ওপর। ঈদের আগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেও আবেদনগ্রহণ শুরু হবে ঈদের পর থেকে। কোনো কারণে ঈদের আগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ সম্ভব না হলে ঈদের পর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।’

এদিকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ১৯তম নিবন্ধন পরীক্ষা এমসিকিউ পদ্ধতিতেই হবে বলে জানিয়েছেন এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম। 

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজ-এ ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনে লিখিত পরীক্ষা থাকবে বলে খবর ছড়ানো হয়। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘১৯তম নিবন্ধনের পরীক্ষা কোন পদ্ধতিতে হবে সেটি সার্কুলারে (বিজ্ঞপ্তি) উল্লেখ করা আছে। এখানে লিখিত নেওয়া হবে এমন কিছু বলা হয়নি। ফলে কনফিউজড হওয়ার কিছু নেই। ২০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতেই ১৯তম নিবন্ধনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।’

১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। প্রথম দফায় ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ই-রেজিস্ট্রেশনের সময় দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা গত ১ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। এখন শূন্য পদের তথ্য (ই-রিকুইজিশন) শুরু করবে এনটিআরসিএ।

নতুন নিয়োগ পদ্ধতিতে যেসব পরিবর্তন আসছে
নতুন নিয়োগ পদ্ধতিতে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি তিন বিভাগের জন্যই ২০০ নম্বরের পরীক্ষার প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও স্কুল-কলেজে এবং কারিগরিতে ১০০ নম্বর সাবজেক্টিভ এবং ১০০ নম্বর জেনারেল এবং মাদ্রাসারা জন্য ১৪০ নম্বর সাবজেক্টিভ এবং ৬০ নম্বর জেনারেল করা প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে এভাবে বিভাজন করলে বৈষম্য তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ জন্য তিন বিভাগের জন্য নম্বর প্যাটার্ন একই রকম রাখার চিন্তা করা হচ্ছে।

সূত্র বলছে, পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনায় অনেকে অনেক ধরনের প্রস্তাব করেছেন। স্কুল-কলেজে এবং কারিগরির জন্য একরকম। আবার মাদ্রাসার জন্য আরেকরকম। তিন বিভাগের জন্য পৃথক পদ্ধতি করা হলে এক প্রকার বৈষম্য করা হবে। সেজন্য আমরা তিন বিভাগের জন্য একই রকম পরীক্ষা পদ্ধতি রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

জানা গেছে, এর আগে এনটিআরসিএর নিবন্ধন পরীক্ষায় কখনোই প্রার্থীদের ভাইভার নম্বর যুক্ত করা হয়নি। প্রথমবারের মতো ভাইভার নম্বর যুক্ত করা হবে। নতুন বিধিমালায় ভাইভার নম্বর যুক্ত করা হবে। এ ব্যাপারে ইতিবাচক শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো ১৯তম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকে বয়স গণনা করা হবে।