২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:০২

আইন মন্ত্রণালয়র মতামত অনুযায়ী সুযোগ চান ১৭তম নিবন্ধনের আবেদনবঞ্চিতরা

১৭তম আবেদনবঞ্চিতদের অবস্থান কর্মসূচি  © ফাইল ছবি

আপিল বিভাগের রায় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত অনুযায়ী গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনের আবেদনবঞ্চিতরা। সম্প্রতি এ দাবিতে দাবিতে শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা। গিয়াস উদ্দিন এবং মো: লাভলু হোসাইন এ স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার প্রেক্ষিতে আমরা মহামান্য হাইকোর্টে রিট দায়ের করি। হাইকোর্ট আমাদের নিয়োগের ব্যাপারে স্পষ্ট Rule and Direction প্রদান করেন। পরবর্তীতে চেম্বার আদালত উক্ত আপিল ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে। পরবর্তীতে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগের রায় হয়ে মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আদেশ প্রদান করে।

আদেশে বলা হয়, “Accordingly, the authority shall decide the case of the writ petitioners-respondents in the light of the judgment and order delivered by this Division in Civil Appeal No.343 of 2019 in the case of Government of Bangladesh vs. Arifur Rahman and others.” এর অর্থ- আমাদের রিটের সিদ্ধান্ত হবে ৩৪৩/১৯ এর আদেশ অনুসারে। আদেশ টি হলো: “From amended Rule 10(1) as amended on 21.10.2015 it appears that the certificates issued will remain in force for a period of 3 years.”

স্মারকলিপিতে ভুক্তভোগীরা জানান, ‘আদালতের এই রায় ঘোষণার পর এনটিআরসিএকে ভুল ব্যাখ্যা করে বুঝানো হয় যে, ১৭তম নিবন্ধনের ৩৫ ঊর্ধ্বরা মামলায় হেরে গেছে। এমনকি এমনভাবে প্রচার করা হয় যে, আমরা চিরদিনের জন্য অযোগ্য হয়ে গেছি। ১-১২তম নিবন্ধনধারীদের মামলার সঙ্গে ১৭তম নিবন্ধনের আবেদনবঞ্চিতদের কোনো সম্পর্ক নেই। ৩৪৩/১৯ মামলাটি সম্পূর্ণরূপে সনদের মেয়াদ সংক্রান্ত। সেই মামলায় স্পষ্ট করে বলা আছে যাদের সনদের মেয়াদ বৈধ থাকবে, তারা নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য।’

শিক্ষামন্ত্রী বরাবর জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘এ কারণেই এনটিআরসিএ দ্বিতীয়বারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ১৭তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের বিষয়ে প্রস্তাব পাঠায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের নিকট মতামত চায়। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতে বলা হয় “আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী সনদের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে এবং করোনা মহামারির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১৭তম ব্যাচের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কোন তারিখে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ নির্ধারিত হবে সে বিষয়ে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যেতে পারে।” অর্থাৎ  আইন মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে আমাদের রায় বয়স সংক্রান্ত নয়, বরং সনদের মেয়াদ সংক্রান্ত। সুতরাং আমাদের সনদের মেয়াদ বৈধ, তাই আমরা নিয়োগ পাওয়ার উপযুক্ত।

১৭তম নিবন্ধনের আবেদনবঞ্চিতরা জানান, ‘আমরা immediate নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছি, কিন্তু চিরতরে নিয়োগ বঞ্চিত হইনি। সুপ্রিম কোর্ট যদি বলে আমাদের নিয়োগ দিলে কোর্টের Contempt হবে—এটি সম্পূর্ণ অমূলক, আইন বিরোধী এবং আমাদের প্রতি স্পষ্ট জুলুম।’

এতে বলা হয়, ‘এমপিও নীতিমালায় বয়স ৩৫ উর্ধ্বদের নিয়োগ না দেওয়ার বিধান থাকলেও করোনা মহামারির কারণে ব্যাকডেট দিয়ে বয়সকে ৩৫-এর মধ্যে এনে আইনি বিধানে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে—এর পূর্বেও এমন নজির রয়েছে। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতও আমাদের পক্ষে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ প্রদানে প্রকৃতপক্ষে কোনো আইনগত বাধা নেই। প্রয়োজন কেবল সদিচ্ছা, ন্যায়বোধ ও সমন্বয়তা।’

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ‘১৭ তম ব্যাচের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ০৩ বছর ১১ মাস পর গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল। তাই মহামান্য আপিল বিভাগের আদেশ এবং আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে, ১৭তম ব্যাচের ক্ষেত্রে যাদের সনদের মেয়াদ বলবৎ রয়েছে ও করোনা মহামারির পরিস্থিতি বিবেচনায় সারাদেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ বিদ্যমান থাকায় মানবিক কারণে আমাদেরকে এক বারের মত বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে শূন্যপদ পূরণের এবং বেকারত্ব কিছুটা লাঘব করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান চাকরিপ্রার্থীরা।’